নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার হাওরগুলোতে ধানগাছে ধান আসতে শুরু করার সময়ই দেখা দিয়েছে ইঁদুরের উপদ্রব। বড় বড় ইঁদুরের পাল ক্ষেতে ঢুকে ধানগাছ কেটে সাবাড় করে দিচ্ছে। বিষ দিয়েও ইঁদুর দমন করতে পারছেন না কৃষকরা। ফলে ক্ষেতের ফসল বাঁচাতে কৃষকরা এখন দিশেহারা।
রোববার সকালে কান্দিউড়া, ওয়াশেরপুর, কমলপুর, চন্দগাতীসহ কয়েকটি গ্রামের হাওরে সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, প্রায় সকল ক্ষেতের ধানগাছে ধান বেরোতে শুরু করেছে। ধানগাছগুলোও বেশ সতেজ ও হৃষ্টপুষ্ট, কিন্তু অনেক ক্ষেতেই ইঁদুরের হানা দেওয়ার কারণে মাঝেমধ্যে ধানগাছ মরে যাচ্ছে। ধানগাছের গুড়ি কেটে দেওয়ায় গাছগুলো শুকিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে কথা হয় কান্দিউড়া গ্রামের হাদিছ মিয়া, জাহাঙ্গীর মিয়া, ফারুক মিয়া, মাসুম ভূঁইয়া, আবুল মিয়া, চন্দগাতী গ্রামের আজিজুল হক, কমলপুর গ্রামের মঞ্জু মিয়া, ওয়াশেরপুর গ্রামের আরশ মিয়া, গিয়াস উদ্দিন, আমিন খান প্রমুখের সঙ্গে।
তারা জানান, অনেক বড় বড় ইঁদুর রাতের বেলায় ক্ষেতে হানা দেয়। ধান গাছে মাত্র ধান ধরতে শুরু করেছে এ সময় ইঁদুরের দল ক্ষেতে ঢুকে ধানগাছের গুড়ি কেটে দিচ্ছে। ফলে সকালবেলায় দেখা যায় গাছগুলো নেতিয়ে পড়ে মরে যাচ্ছে। এখনই ইঁদুর দমন করতে না পারলে ঘরে ফসল তোলা সম্ভব হবে না। ক্ষেতগুলোর মাঝেমধ্যেই ইঁদুরে কাটার ক্ষতচিহ্ন রয়েছে।
কৃষকরা জানান, ইঁদুর তাড়াতে বিভিন্ন শব্দ করে, ক্ষেতে বাঁশের কঞ্চি কুপে রঙিন কাগজ টানিয়ে, চুঙ্গি বাজিয়ে চেষ্টা করেও তাড়ানো যায় না। কৃষি অফিসের লোকেরা বলেন, ক্ষেতে ইঁদুর মারার বিষ দিতে, কিন্তু বিষও কাজ করছে না।
এ বিষয়ে রোববার দুপুরের দিকে কথা হয় কেন্দুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ূন দিলদারের সঙ্গে।
তিনি বলেন, “হাওরে ইঁদুরের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে প্রত্যেক এলাকায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা ব্যাপক কাজ করছেন। আমরাও কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি। তারা ক্ষেতে ইঁদুরের ফাঁদ, বাঁশের চুঙি ব্যবহার ও ক্ষেতে নিয়মিত পরিচর্যা করবেন। তারপরও কৃষকগণ যেন কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন, আমরাও নিয়মিত খোঁজখবর রাখছি।”
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন