রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে শিয়ালবাড়ী পোশাক কারখানায় চাকরি নেয় আসমা আক্তার। কাজে যোগদানের সাত-আট মাসের মাথায় কারখানায় লাগা আগুনে পুড়ে প্রাণ গেল তার।
সোমবার সকাল ১০টায় আসমার মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলার ৫নং সমাজ সহিলদেও ইউনিয়নের সাউথখালী গ্রামে আনা হয়।
আসমা আক্তার (১৩) ওই গ্রামের নয়ন মিয়া ও ফরিদা আক্তার দম্পতির ছয় সন্তানের মধ্যে তৃতীয় কন্যা সন্তান।
আসমা আক্তারের চাচা যতন মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঢাকা মিরপুরে একটি পোশাক কারখানায় ৭-৮ মাস ধরে চাকরি করতো। আগুন লাগার পরে তাকে খুঁজে না পেয়ে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে তার পড়নের জামা-কাপড়ের আলামত দেখে পরিবারের সদস্যরা লাশ চিহ্নিত করে।
রোববার রাতে ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় নিশ্চিত হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে লাশ আনা হয়। আজ সকাল ১০টায় গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
উপজেলার ৩নং তেতুলিয়া ইউনিয়নের জৈনপুর গ্রামের জজ মিয়ার ছেলে তোফায়েল আহমেদ (১৮)-এর মরদেহ এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পরিবার।
গত মঙ্গলবার শিয়ালবাড়ির একটি রাসায়নিক গুদামে আগুন লাগে। গুদামে আগুন ধরে বিস্ফোরিত হয়ে পাশের চারতলা ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। পরে চারতলা ভবনের দোতলা ও তিনতলার বিভিন্ন স্থান থেকে ১৬টি লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশগুলো পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।
দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে আসমার পরিবারকে মরদেহ দাফন খরচ বাবদ ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
মোহনগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার আমেনা খাতুন বলেন, “এ বিষয়ে আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পেরেছি। অফিসিয়ালি আমাকে অবগত করা হয়নি। আগে জানি, তারপর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন