প্রেমে ব্যর্থ হওয়া শিকলবন্দি মামুনের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন ইউএনও

মিয়া রোকন, বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রকাশিত: অক্টোবর ২৭, ২০২৫, ০২:৪৮ পিএম
প্রেমে ব্যর্থ হওয়া শিকলবন্দি মামুনের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন ইউএনও

বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের আইসার হাওলা গ্রামের সাইদুল ইসলাম মামুন ২০ বছর আগে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এক পর্যায়ে ১২ বছর ধরে শিকলবন্দি অবস্থায় ছিলেন। এরপর গত কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে বাবুগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারুক আহমেদের নজরে আসে। পরে ইউএনও মামুনের পরিবারের ব্যাপারে খোঁজখবর নেন।

সোমবার বেলা ১১টায় ইউএনওর কক্ষে মামুনের চিকিৎসার জন্য তার মায়ের হাতে একটি চেক প্রদান করেন ইউএনও ফারুক আহমেদ। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মিজানুর রহমান, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

সাইদুল ইসলাম মামুন উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের আইসার হাওলা গ্রামের মোসলেম ব্যাপারি ও সোনাবান বেগমের ছেলে।

উল্লেখ্য, সাইদুল ইসলাম মামুন বাবুগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নিয়মিত একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। তখন একই বিদ্যালয়ের সোনালী (ছদ্মনাম) নামের এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একসময় তাদের সম্পর্কের বিষয়টি মেয়ের পরিবার জানতে পারে। বিষয়টি নিয়ে মামুনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে মেয়েটির পরিবার এবং মেয়েটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এতেই মামুন ধীরে ধীরে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। সেই থেকে মামুন পাগল হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতেন। এক পর্যায়ে মানসিক বিপর্যস্ত মামুনকে তার পরিবার শিকলবন্দি করে রাখে। গত ১২ বছর যাবৎ পায়ে শিকল পরিয়ে তালা মেরে রাখা হয় মামুনকে।

এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারুক আহমেদ বলেন, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর আমাদের নজরে আসে। পরে মামুনের মাকে ডেকে এনে তার হাতে চিকিৎসার জন্য একটি চেক প্রদান করেছি। ভবিষ্যতে মামুনের চিকিৎসার জন্য আরও অর্থ সহায়তা প্রদানের চেষ্টা করব।

এ বিষয়ে সাইদুল ইসলাম মামুনের মা সাংবাদিকদের বলেন, আমার ছেলে সাইদুল ইসলাম মামুন লেখাপড়ায় খুব ভালো ছিল। ভালোবাসায় ব্যর্থ হয়ে দীর্ঘ অনেক বছর যাবৎ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। আমার সাধ্যের মধ্যে তাকে বহুবার চিকিৎসা করিয়েছি, কিন্তু কোনো ফল হয়নি। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াত মামুন, তারপর ১২ বছর যাবৎ ঘরের ভিতর শিকলবন্দি করে রেখেছি তাকে। কেউ সাইদুল ইসলাম মামুনের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা করেনি।

ইএইচ