কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় কলেজ ছাত্রকে অপহরণ করে নির্মমভাবে মারধর ও নির্যাতন করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তৃপক্ষ তাকে ঢাকায় প্রেরণ করে।
ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন হসপিটালে ৮ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর সোমবার বেলা সাড়ে এগারোটায় সে মৃত্যুবরণ করে।
এই ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর মা মোসা. ফেরদৌসী আক্তার বুড়িচং থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি বাহেরচর গ্রামের মো. মোসলেম উদ্দিনের স্ত্রী।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা হলেন মো. সাইফুল ইসলাম (বাবু) (৪৫), মো. নাফিজ উদ্দিন (১৯), মো. জহির (৪২), আবদুল আলিম (৪৫), সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জন।
ফেরদৌসী আক্তার অভিযোগে জানান, তার ছেলে তুহিন (১৯) বুড়িচং এরশাদ ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। পূর্ববিরোধের জেরে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তার ছেলেকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল।
গত ২০ অক্টোবর রাত ৮টা ৩০ মিনিটে শ্রীপুর গ্রামের কামাল মিয়ার বাড়ির সামনে প্রথমে তুহিনকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। এরপর প্রথম অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামের বাড়ির পূর্ব পাশের বিল্ডিং ঘরে নিয়ে গিয়ে লোহার রড ও এসএস পাইপ দিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর করা হয়।
এতে তুহিনের হাত-পা ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। পরে সে চিৎকার করলে স্থানীয়রা এগিয়ে আসে। এ সময় অভিযুক্তরা তার মোবাইল ফোন (মূল্য আনুমানিক ১৫ হাজার টাকা) ছিনিয়ে নেয় এবং তার বাবা-মাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত অবস্থায় তুহিনকে প্রথমে বুড়িচং সরকারি হাসপাতালে এবং পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা আনোয়ার খান মডার্ন হসপিটালে পাঠানো হয়, যেখানে ৮ দিন লাইফ সাপোর্টে মৃত্যুর সাথে লড়াই করার পর আজ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এবিষয়ে বুড়িচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিজুল হক জানান, অভিযোগ দায়েরের সঙ্গে সঙ্গে মামলাটি রুজু করা হয়। আসামিদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। মামলার আসামী মো. সাইফুল ইসলাম (বাবু) ইউরোপ প্রবাসী সে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন