ইঞ্জিন সংকটে মোহনগঞ্জে লোকাল ট্রেন বন্ধ, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা

মোহনগঞ্জ (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি প্রকাশিত: অক্টোবর ৩০, ২০২৫, ০৪:১৬ পিএম
ইঞ্জিন সংকটে মোহনগঞ্জে লোকাল ট্রেন বন্ধ, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা

ময়মনসিংহ টু মোহনগঞ্জ রুটে লোকাল ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেছে। বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহে আসা-যাওয়ার স্বল্প ভাড়ার এসব ট্রেন বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ সকল যাত্রীরা। 

ফলে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে হাওর অঞ্চলের মানুষকে। যাত্রীরা বাস, সিএনজি, ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে এবং সময়ও বেশি ব্যয় হচ্ছে। কবে এ ট্রেনগুলো চালু হবে তা নিদিষ্ট করে জানে না কর্তৃপক্ষ। ট্রেনটি চালুর দাবিতে ইতিমধ্যে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

মোহনগঞ্জ টু ময়মনসিংহ রেলপথের দূরত্ব ৬৮.৫ কিলোমিটার। ওই রেলওয়ে পথে ঢাকা টু মোহনগঞ্জ হাওর এক্সপ্রেস ও মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস নামের দুটি আন্তনগর ট্রেন চলাচল করে। 

এ ছাড়া একটি লোকাল ও একটি কমিউটার ট্রেনও চালু রয়েছে। লোকাল ডাউন ট্রেনটি প্রতিদিন ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন থেকে যথাক্রমে ভোর ৫টা ৪০ এবং বেলা ২টা ১০ মিনিটে মোহনগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। অন্যদিকে ময়মনসিংহের উদ্দেশে প্রতিদিন সকাল ৮টা ৩০ মিনিট ও বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে মোহনগঞ্জ স্টেশন থেকে ছেড়ে যায়।

মোহনগঞ্জ লোকাল ট্রেনটি প্রতিদিন ময়মনসিংহ থেকে মোহনগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে সকাল-বিকাল দুইবার পাঁচটি বগি নিয়ে আসা-যাওয়া করত।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, লোকাল ট্রেনটিতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ যাতায়াত করেন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে লোকাল ট্রেনটির চলাচল বন্ধ রয়েছে।

লোকাল ট্রেনে নিয়মিত চলাচলকারী জমির উদ্দিন ও আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “এই লোকাল ট্রেনে কম খরচ ও স্বল্প সময়ের মধ্যে সহজে কর্মস্থলে যাওয়া-আসা করা যেত। কিন্তু ট্রেনটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় আমাদের ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।”

অনেক যাত্রী ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন থেকে পর্যায়ক্রমে শম্ভুগঞ্জ, বিশকা, গৌরীপুর, শ্যামগঞ্জ, হিরণপুর, চল্লিশা, নেত্রকোণার বড় স্টেশন, কোর্ট স্টেশন, ঠাকুরাকোনা, বারহাট্টা, অতিথপুর, মোহনগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা, বাদশাগঞ্জ, মধ্যনগর, তাহেরপুর, জয়শ্রী, দিরাই, রাজনগরসহ বেশ কয়েকটি অঞ্চলে সুবিধামত যাওয়া-আসা করতেন। ট্রেনটি বন্ধ থাকায় এই অঞ্চলের যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

মোহনগঞ্জ স্টেশনমাস্টার মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “আমি নতুন এসেছি। আমার আসার অনেক আগে থেকেই ট্রেনটি বন্ধ রয়েছে। লোকাল ট্রেনটির ইঞ্জিন সল্পতার কারণে ট্রেনটি চলাচল বন্ধ আছে। তবে কখন ট্রেনটি চালু হবে, তা নিদিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না।”

নেত্রকোণার স্টেশনমাস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “লোকাল ট্রেনটি ইঞ্জিন সল্পতার কারণে চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে কবে নাগাদ ট্রেনটি চালু হবে, তা আমি জানি না।”

ইএইচ