মানিকগঞ্জে টিএসপি সারের সংকট হওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, ডিলারের দোকানে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত টিএসপি সার মেলছে না। তবে জেলা কৃষি বিভাগ ও জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জেলায় সারের কোন সংকট নেই। কৃষকদের অতিরিক্ত মজুদের কারণে ডিলারদের দোকানে সাময়িক চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
এদিকে, সার বরাদ্দ, উত্তোলন, বিক্রি ও মজুদ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে জেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে।
সরেজমিন জেলার ঘিওর ও শিবালয় উপজেলার বিভিন্ন ডিলারের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কৃষকরা সার ক্রয় করছেন।
কয়েকজন কৃষক জানিয়েছেন, বর্ষা শেষে তাদের খেত চাষাবাদের উপযোগী হয়ে উঠেছে। বর্তমানে স্বল্প পরিসরে পেঁয়াজ ও ভুট্টা চাষ শুরু হলেও সরিষা আবাদ শুরু হতে এখনও সপ্তাহ দুয়েক সময় লাগবে। কিন্তু টিএসপি সারের সংকটের গুজব শুনে সবাই আগে ভাগে সার কিনতে এসেছেন।
নাজিমুদ্দিন নামে এক কৃষক বলেন, “চাষাবাদ শুরু হলে আমাদের অনেক ব্যস্ততা থাকে। তখন সারের খোঁজ করা কষ্টকর। আগে সার কিনে রাখলে নিশ্চিন্তে কাজ করা যায়।”
আল মামুন নামে আরেক কৃষক বলেন, “এবছর ৫ বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করতে যাচ্ছি। চাষ শুরু হতে অন্তত ১৫ দিন সময় আছে। তীব্র সার সংকটের গুজব শুনে আগে সার কিনতে এসেছি। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র এক বস্তা টিএসপি সার পেয়েছি। ইউরিয়া, পটাশ ও ডিএপি সারের কোন সমস্যা নেই, তবে টিএসপি সার চাহিদার তুলনায় কম দিচ্ছেন ডিলাররা।”
একজন ডিলার (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, “সারের সরবরাহ ঠিক আছে। কিন্তু একসঙ্গে অনেক কৃষক বেশি করে কিনতে আসায় দোকানে চাপ তৈরি হচ্ছে। কৃষি অফিসাররা প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করছেন।”
ঘিওর উপজেলার বড়টিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা সেলিম মিয়া জানান, “মৌসুমের শুরুতেই গুজব ছড়িয়ে পড়েছে সার সংকটের। তাই কৃষকরা ডিলারের দোকানে ভীড় করছেন। অনেকেই এক মাস পর প্রয়োজনীয় সারও আগে কিনে বাড়িতে মজুদ করছেন। কৃষকরা জানেন না প্রতিটি ডিলারের দোকানে প্রতিমাসে নির্ধারিত বরাদ্দ থাকে।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহজাহান সিরাজ বলেন, “জেলায় সারের কোন সংকট নেই। পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। মানুষের মাঝে সার সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। ডিলারদের দোকানে ন্যায্যমূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সরাসরি তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সার বরাদ্দ, উত্তোলন, বিক্রি ও মজুদ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।
অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) ড. মোছা. মমতাজ সুলতানাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি টিম কন্ট্রোল রুম পরিচালনা করছে। কোন এলাকায় চাহিদা সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেলে অন্য এলাকা থেকে সমন্বয় করা হচ্ছে।”
মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. মানোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, “জেলায় সার নিয়ে কোন সংকট নেই। বাজারে সিন্ডিকেট বা অতিরিক্ত মজুদ করে কেউ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগে বিভিন্ন অভিযোগে কয়েকজন ডিলারকে জরিমানা করা হয়েছে। গুজবে কান না দিয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সময়ে নির্ধারিত পরিমাণ সার সংগ্রহ করার আহ্বান জানাচ্ছি।”
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন