পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২২টি ফসলের ১৩৭টি উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছে বিজ্ঞানীরা। যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং উত্তরবঙ্গের মঙ্গা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. শরীফুল হক ভুঞা।
মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) সংলগ্ন বিনা অডিটোরিয়ামে পাঁচ দিনব্যাপী বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষিতে বিপ্লব ঘটানোর লক্ষ্যে বিনার বিজ্ঞানীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ভবিষ্যতেও দেশের কৃষি উন্নয়নে বিনা আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিনার পরিচালনা কমিটির সদস্য কৃষিবিদ মো. শফিকুল ইসলাম সোহেল বলেন, ফ্যাসিস্টমুক্ত বিনার বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যে কৃষি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাদের কাজের গতিকে আরও বেগমান করতে অস্থায়ী কর্মচারীদের স্থায়ীকরণ ও পেনশন সুবিধা বাস্তবায়ন জরুরি।
বিনার পরিচালক (প্রশাসন) ড. আজিজুল হক বলেন, বিশ্বে কৃষি গবেষণায় বিনার অবস্থান অষ্টম। তবে পেনশন সুবিধা না থাকায় অনেক মেধাবী কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘদিন থাকা থেকে নিরুৎসাহিত হন। মেধা ধরে রাখতে আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
বাকৃবির বাউরেস পরিচালক প্রফেসর ড. হাম্মামুর রহমান বলেন, গবেষণা মানোন্নয়নে গবেষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পেটে ক্ষুধা নিয়ে গবেষণা হয় না। তাই বিনায় পেনশন ব্যবস্থা চালুর কোনো বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (গবেষণা) আবু জুবায়ের হোসাইন বাবলু। উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির কৃষি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. জিএম মজিবুর রহমান, কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান ড. আব্দুস সালাম, কৃষিবিদ একেএম আনিসুজ্জামান আনিস, অতিরিক্ত পরিচালক সালমা লাইজু, ড. মো. হোসেন আলী প্রমুখ।
উদ্বোধনী দিনে বিনার ১৩টি উপকেন্দ্র এবং একটি আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্রের অধীনে কাজ করা ১৪ জন সফল বীজ উদ্যোক্তা কৃষককে সম্মাননা প্রদান করা হয় বলে জানান, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহাবুবুল আলম তরফদার।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন