দৌলতপুরে ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি প্রকাশিত: নভেম্বর ১০, ২০২৫, ০৪:২৩ পিএম
দৌলতপুরে ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ১১নং আদাবাড়ীয়া ইউনিয়নের ধর্মদহ গ্রামের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে দেড় বছর ধরে দুঃস্থ, অসহায়, প্রতিবন্ধী ও বিধবাদের ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। 

অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করে ভাতা অন্য আত্মীয়দের নামে উত্তোলন করা হয়েছে।

স্থানীয় শারীরিক প্রতিবন্ধী সুলতান হোসেন জানান, দেড়বছর আগে একবার ভাতা পেয়েছিলেন, পরবর্তী সময়ে টাকা না পেয়ে তিনি কয়েকবার মেম্বরের কাছে গেলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিদায় করা হয়েছে। অক্টোবর মাসে টাকা না পাওয়ায় উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের কাছে গেলে তাকে জানানো হয় যে টাকা অন্য নম্বরে গিয়েছে; সেই নম্বরও দেখার সুযোগ পাননি।

বিএনপির ১১নং আদাবাড়ীয়া ইউনিয়ন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম জানান, বহু উপকারভোগী অভিযোগ নিয়ে তার কাছে এসেছেন। সমাজসেবা অফিসারের দেওয়া নম্বরে কল করলে ফোন রিসিভ করেছেন বজলুর রহমান। তিনি আমজাদ মেম্বরের শশুর। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ভুক্তভোগীরা শহিদুলের পার্টি অফিসে ভিড় করেছেন। 

স্থানীয়দের ধারণা, অন্তত ৪০–৫০ জন ভাতাভোগীর টাকা অনুপস্থিত রয়েছে।

বিধবা সুরতন নেছা অভিযোগ করেছেন, দুই বছর আগে বিধবা ভাতা এবং সরকারি বাড়ি দেয়ার নামে মেম্বর ৫ হাজার টাকা নিয়েছেন; কিন্তু এখনও ভাতা পাননি ও বাড়িও পাননি। 

মাসিকুল ইসলাম জানান, তার শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলে সুফিয়ানের ভাতা ছয় মাস পর পাওয়া শুরু হলেও পরে ৯ মাসের টাকা আর পাননি। অভিযোগ করলে মেম্বর রাতের বেলা বাড়িতে গিয়ে চাপ দিয়ে ৭ হাজার ৭শত টাকা ফেরত দিয়েছেন।

প্রসূতি ভাতার জন্য ছাত্তারের স্ত্রীর ভাতার কার্ড করার নামে দুই বছর আগে ৬ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে; সেই টাকা এখনও ফেরত পাননি এবং কার্ডও তৈরি করা হয়নি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শুধু ভাতার টাকা নয়, বিভিন্ন সরকারি সুবিধার নামে গরিব ও অসহায়দের প্রতারণা করে বড় অংকের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

অভিযোগের জবাবে ৯ ন ওয়ার্ড মেম্বর আমজাদ হোসেন বলেন, “প্রায় ১০ জন ভাতাভোগীর টাকাসংক্রান্ত অনিয়ম হয়েছে; তা আমার ভুল।” 

১১নং আদাবাড়ীয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল বাকি বলেন, গরীবের ভাতার টাকা মেরে খাওয়ার সুযোগ নেই; তথ্য-প্রমাণ পেলে দোষীদের শাস্তি হবে।

উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. জহিরুল ইসলাম ফোন রিসিভ না করলেও, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল হাই সিদ্দিকী বলেন, “মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করে আত্মীয়দের নম্বর দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে; তদন্ত করে সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ইএইচ