লালমনিরহাটের আদিতমারীতে জমি-জমা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় বাড়ি-ঘর ভাঙচুর এবং লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার কমলাবাড়ী ইউনিয়নের বড় কমলাবাড়ি দোলাপাড়া এলাকায় মৃত ফরমান আলীর ছেলে আব্দুস সামাদের বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সামাদ তার বাবার পৈতৃক ৪০ শতক জমি নাবালক সূত্রে তার বাবার বড় ভাই মৃত হুরমুজ আলী আনুমানিক প্রায় ৪০ বছর আগে একই এলাকার প্রতিবেশি মৃত খেচু শেখের ছেলে রফিকুলের কাছে বিক্রি করেছিলেন। পরে সামাদ প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে জমি উদ্ধারের জন্য মামলা দায়ের করেন। গত ৩০ অক্টোবর মামলা রায় পাওয়ার পর শুক্রবার গভীর রাতে প্রতিপক্ষ রফিকুল, তার ছেলে হাবু, মেয়ে পারভীন, কার স্বামী কাজল, নাতনী এবং পরিবারের লোকজনসহ ৫০-৬০ জন ভাড়াটে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে চারটি থাকার ঘর ভেঙে লুটপাট করে।
হামলার সময় রফিকুলের ৭০ বছরের মা জয়গুন বেওয়া বাধা দিলে তাকে কুপিয়ে আহত করা হয় এবং গুরুত্বর অবস্থায় আদিতমারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হামলার শিকার আব্দুস সামাদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে রফিকুলের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। আদালতের রায়ের পর রফিকুল নানাভাবে হুমকি দিচ্ছিল। শুক্রবার রাত ৩টার দিকে সন্ত্রাসীরা দেশী অস্ত্রের মুখে তাকে ও তার পরিবারের লোকজনকে জিম্মি করে হামলা চালিয়ে জমির দলিল, গরু-ছাগল, স্বর্ণলংকার এবং টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
সামাদের স্ত্রী জহুরা জানান, এ ঘটনায় থানা পুলিশকে ফোন করলে তারা কোনো সহযোগিতা করেনি। পরে ৯৯৯ কল করলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে চলে যায়।
সামাদের ছেলে সাদিকুল বলেন, বাড়ি-ঘর ভাঙচুরের পর প্রতিপক্ষ এখনও প্রাণহানি হুমকি দিচ্ছে। তারা এখন কোথায় থাকবে তা নিয়ে শঙ্কিত এবং পুরো পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হামলার সময় গভীর রাতে ভাঙচুরের শব্দ শুনে কেউ এগোতে সাহস পাননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, সামাদের পরিবার মৃত্যুর ঝুঁকিতে আছে।
আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ আলী আকবর বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন