গাজীপুরের কালিয়াকৈরে শাহজাহানের ছেলে খোকন (২৮) রহস্যজনকভাবে মারা গেছেন। পরিবারের অভিযোগ, পরকীয়ার জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
সোমবার রাত দেড়টার দিকে উপজেলার কালামপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত খোকন উপজেলার পাইকপাড়া এলাকার শাহজাহানের ছেলে এবং স্থানীয় ইকোটেক্স কারখানার কর্মচারী ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, খোকনের স্ত্রী তাজিনের বাড়ি কালিয়াকৈর পৌরসভার কালামপুর এলাকায়। তিনি মোস্তফার মেয়ে।
পরিবার জানায়, প্রায় ১০ বছর আগে খোকন ও তাজিনের বিয়ে হয়। তাদের এক পুত্র সন্তান রয়েছে। তবে বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। সম্প্রতি খোকন স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলে সম্পর্ক আরও অবনতি ঘটে।
পরিবারের অভিযোগ, তাজিন স্থানীয় যুবক ‘উৎস’-এর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। সোমবার রাতেও তাদের মধ্যে ঝগড়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।
এরপর খোকনের শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে প্রথমে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা তাঁকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে নেওয়ার পথে খোকনের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে পৌঁছালে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের শ্বশুর মোস্তাফা জানান, রাতে মেয়ে ফোন করে জানায় খোকনের মুখ দিয়ে ফেনা উঠছে। আমি দ্রুত গিয়ে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি।
খোকনের পরিবার অভিযোগ করেছে, এই মৃত্যু স্বাভাবিক নয়—তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কালিয়াকৈর থানার ওসি (অপারেশন) জুবায়ের আহমেদ বলেন, মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতাল থেকে আমাদের খবর দেওয়া হয়েছে। মরদেহ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে বোঝা যাবে এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি অপমৃত্যু।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন