রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাঘা বাজারে পৌর মার্কেটের ‘মুনির এন্ড ব্রাদার্স’ নামের দোকানের তালা খুলে চুরির ঘটনায় থানা পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ২০ ঘণ্টার মধ্যে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং ৫ নৈশপ্রহরী চোরকে গ্রেপ্তার করেছে।
বুধবার আদালতের মাধ্যমে আসামিদের জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের তাহাজ্জত আলী (৫০), আব্দুল মান্নান (৬০), হোজিম উদ্দীন (৪৫), মকলেচ (৩৫) এবং পাকুড়িয়া গ্রামের মিজানুর রহমান (৪২)।
পুলিশ জানায়, গত ১০ নভেম্বর সোমবার রাত ২টা ২৪ মিনিটের দিকে মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে চোরেরা দোকান থেকে প্রায় ৯০ হাজার টাকার পণ্য চুরি করে। পাশের ঔষধের দোকানের সিসি ক্যামেরায় দেখা গেছে, চার থেকে পাঁচজনের একটি দল দোকানের সামনে আসে। একজন প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে সিসি ক্যামেরা ঢেকে দেন। এরপর তারা নকল চাবি ব্যবহার করে তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে দ্রুত চুরি করে এবং তালা আবার লাগিয়ে চলে যায়।
‘মুনির এন্ড ব্রাদার্স’-এর স্বত্তাধিকারী মুনির হোসেন জানান, ১০ নভেম্বর রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি গেলে পরের দিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দোকান খুলে দেখেন সিগারেট, সুপারি, এলাচ ও জিরাসহ বিভিন্ন পণ্য নেই। এসব পণ্যের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৯০ হাজার টাকা। তিনি বাঘা থানায় চুরির অভিযোগ দায়ের করেন।
দোকানের পাশের ঔষধ ব্যবসায়ী রুবেল হোসেন বলেন, “আমার দোকানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে চুরির ঘটনা স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। চোরেরা খুব পরিকল্পিতভাবে কাজ করেছে।”
বাঘা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রদীপ কুমার প্রামাণিক বলেন, “সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। প্রযুক্তির সহায়তায় চোরদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
বাজারে ৬ জন নৈশপ্রহরী থাকা সত্ত্বেও চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। এরপর ১১ নভেম্বর মঙ্গলবার রাতে বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ আ.ফ.ম. আসাদুজ্জামান আসাদ নেতৃত্বে একটি অভিযানিক দল বিনোদপুর গ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে ৫ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। চুরি হওয়া মালামালও উদ্ধার করা হয়েছে।
বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আ.ফ.ম. আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, “দোকান চুরি সংক্রান্ত মামলার এ ঘটনায় বাঘা বাজারের ৫ জন নৈশপ্রহরী চোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।”
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন