বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) নিজস্ব অর্থায়নে কেনা দ্বিতীয় নতুন জাহাজ ‘এমভি বাংলার নবযাত্রা’ আগামী মাসের মাঝামাঝি সমুদ্রে ট্রায়াল রান শুরু করতে যাচ্ছে। চীনের নানইয়াং শিপইয়ার্ডে নির্মিত জাহাজটি ইতোমধ্যে যাত্রার পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
ট্রায়াল রানে বিএসসির বিশেষজ্ঞ টীম ও শিপইয়ার্ডের প্রকৌশলীরা অংশ নেবেন। ট্রায়াল পরীক্ষায় কোনো রকম ত্রুটি ধরা পড়লে তা সংশোধনের পরই জাহাজটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হবে।
২০২৬ সালের শুরুতেই বাংলাদেশি পতাকা উড়িয়ে আন্তর্জাতিক রুটে পণ্য পরিবহনে নামবে নতুন এমভি বাংলার নবযাত্রা জাহাজটি।
বিএসসির তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটির বহনক্ষমতা ৬৩ হাজার ৫০০ টন। ড্রাফট ১৩.৫ মিটার, দৈর্ঘ্য ১৯৯.৯৯ মিটার, প্রস্থ ৩২.২৬ মিটার। এই জাহাজ যুক্ত হলে বিএসসির মোট জাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে সাতটিতে।
২০১৯ সালের পর দীর্ঘ সময় কাটিয়ে এ বছর দুইটি নতুন জাহাজের মধ্যে একটি জাহাজ ইতোমধ্যে বহরে যুক্ত হয়েছে এবং অপরটি যুক্ত হতে যাচ্ছে বিএসসিতে।
প্রথম জাহাজ ‘এমভি বাংলার প্রগতি’ ইতোমধ্যে বহরে যোগ দিয়ে চালনা শুরু করেছে। কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা দুটি জাহাজ বহরে যুক্ত হলে বছরে ২০০ কোটি টাকার বেশি আয় বাড়বে এবং কমপক্ষে ১৫০ নাবিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, “নিজস্ব অর্থায়নে জাহাজ কেনা বিএসসির ইতিহাসে প্রথম। ব্যাংকে আমানত রাখার চেয়ে জাহাজে বিনিয়োগ বেশি লাভজনক। এই নীতিগত সিদ্ধান্তই আমাদের দ্রুত দুইটি জাহাজ আনার সুযোগ দিয়েছে। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে ধীরে ধীরে আরও নতুন জাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধি করে অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখব।”
পূর্বের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা যাচাইয়ের পর সরকার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হেলেনিক ড্রাই বাল্ক ভেঞ্চারস এলএলসি থেকে ৯৩৬ কোটি টাকায় দুইটি জাহাজ কেনার অনুমোদন দেয়। জাহাজগুলি চীনের শিপইয়ার্ডে নির্মিত এবং সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন