সখীপুরে মেয়েকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা

আমিনুল ইসলাম, সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রকাশিত: নভেম্বর ১৯, ২০২৫, ০৫:১৯ পিএম
সখীপুরে মেয়েকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা

টাঙ্গাইলের সখীপুরে ২৬ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী মেয়েকে শ্বাসরোধের মাধ্যমে হত্যার পর মা ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। 

মঙ্গলবার উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মুচারিয়া পাথার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের কৃষক শামছুল আলমের স্ত্রী শাহনাজ বেগম (৫৮) দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় মানসিক অশান্তিতে ভুগছিলেন। অন্যদিকে ২৬ বছর বয়সী মেয়ে সাজেদাও অসুস্থ ছিলেন।

এরই জেরে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে প্রথমে মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন এবং পরে নিজে রান্না ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

স্থানীয়রা জানান, শাহনাজ বেগম দীর্ঘদিন ধরে কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন। অন্যদিকে তাদের ২৬ বছরের প্রতিবন্ধী মেয়েও অনেক অসুস্থ ছিল। মানসিক ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে তিনি এমন কাজ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লোকমান হোসেন জানান, শাহনাজ বেগম প্রায় ২০ বছর ধরে শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা এবং নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। অন্যদিকে প্রতিবন্ধী মেয়ে সাজেদার বয়স ২৬-২৭ বছর হলেও উচ্চতা দুই বা সোয়া দুই ফুটের মতো। ছয় মাস ধরে মেয়ে মুখে তেমন কিছু খেতে পারছিল না এবং ছয় মাস ধরে পায়খানা বন্ধ ছিল। তার পেট ফুলে গিয়েছিল এবং চলাফেরা করতে পারছিল না। একদিকে নিজে জটিল রোগে ভুগছিলেন, অন্যদিকে প্রতিবন্ধী মেয়ে অসুস্থ হওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, “মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পিতা শামসুল হক ঘটনার রাতে গরু রাখার ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন।”

সখীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল কালাম ভুঞা বলেন, “নিহত মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মা ও প্রতিবন্ধী মেয়ে দুজনেই গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। শারীরিক ও মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।”

ইএইচ