শুক্রবার সকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার আমতৈল গ্রামের স্টাইলস্মিথ অ্যাপারেলস লিমিটেডে ব্যাপক কম্পন অনুভূত হলে শ্রমিকেরা আতঙ্কে কারখানার এসেম্বলি এলাকায় ছুটে আসেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রশাসন ব্যবস্থাপক মো. আমানুল্লাহ ও সুব্রত সিকদার কোনো ধরনের বিল্ডিং নিরাপত্তা পরীক্ষা ছাড়াই মাইকে ঘোষণা দিয়ে শ্রমিকদের আবার ফ্লোরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
শ্রমিকেরা ফ্লোরে ফিরে গিয়ে কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখতে পান। এতে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে অসুস্থ হয়ে নিচে নামতে থাকেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, তখনও ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা তাদের বারবার বাধা দেন। বিষয়টি জানাজানি হলে শ্রমিকদের অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন কারখানার সামনে ভিড় করেন। পরে অসুস্থ ও আহত শ্রমিকদের শ্রীপুর ও মাগুরার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, “ভূমিকম্পের পর নিরাপত্তা পরীক্ষা না করে ফ্লোরে তোলার সিদ্ধান্ত ছিল আত্মঘাতী” দাবি শ্রমিকদের।
তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ‘অদূরদর্শী সিদ্ধান্তে’ অনেক বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত। ‘শ্রমিকদের মৃত্যুর মুখে ফেলে দেওয়া হয়েছিল’ শ্রমিকদের অভিযোগ।
কারখানার কয়েকজন শ্রমিক বলেন, “ফাটল দেখে আমরা সবাই ভয় পেয়ে যাই। তখনও তারা আমাদের কাজ করতে বলছিল। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ে গেলে বলে পানি খেয়ে কাজে লাগতে।” অন্য একজন শ্রমিক বলেন, “আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে চাই না। ভবন আগে পরীক্ষা হোক।”
শ্রমিকরা আরও অভিযোগ করেন, শ্রম আইন লঙ্ঘন করে শুক্রবারেও কারখানা চালু রাখা হয়, এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক আমানুল্লাহ ও কারখানার সিইও শ্রীলঙ্কান নাগরিক প্রসান্না শ্রমিকদের বলপূর্বক কাজে বাধ্য করেন। আজ শুক্রবারে কাজ করতে বাধ্য করায় হঠাৎ অতর্কিত ভূমিকম্পের কারণে ৭০ থেকে ১২০ জন শ্রমিক আহত হয়।
মাগুরা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও মাগুরা-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মনোয়ার হোসেন খান ঘটনাস্থল ও স্থানীয় হাসপাতালগুলো পরিদর্শন করেন। তিনি শ্রমিকদের খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার বিষয়ে নির্দেশনা দেন।
স্টাইলস্মিথ অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামীম আহমেদ বলেন, “ঘটনার সময় শ্রমিকদের নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছিল। পরে আমাদের ইঞ্জিনিয়াররা প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে কোনো বড় ধরনের ক্ষতির প্রমাণ পাননি, এজন্য সীমিত আকারে কাজ শুরু করা হয়েছিল। কিছু শ্রমিক ফাটলের ভুল ব্যাখ্যা করে আতঙ্কে নিচে নেমে আসেন। আমরা কোনো শ্রমিককে জোর করিনি।"
তিনি আরও বলেন, “শুক্রবার কারখানা চালু থাকা বিষয়ে শ্রম আইন অনুযায়ী আমরা যথাযথ অতিরিক্ত সুবিধা দিয়ে কাজ নিয়েছি। নিয়মভঙ্গের অভিযোগ সঠিক নয়। তবে আজকের ঘটনার ব্যাপারে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।”
প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক মো. আমানুল্লাহ বলেন, “আমরা কখনোই শ্রমিকদের জোর করিনি। ভবন পরিদর্শকরা জানানোর পরই তাদের কাজে ফিরতে বলা হয়। যেসব জায়গায় চির দেখা গেছে তা ছিল প্লাস্টারের, কাঠামোগত নয়। ভুল বোঝাবুঝির কারণে কিছু শ্রমিক আতঙ্কিত হয়েছিলেন।”
স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা বলেন, “কর্মীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। ভূমিকম্পের পর যেকোনো ভবনেই ঝুঁকি থাকে। প্রথমে ভবন পরীক্ষা না করে কাজ করানো অমানবিক।”
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন