ঈশ্বরগঞ্জের পিআইও রেজাউল করিমকে ছাতকে বদলি

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি প্রকাশিত: নভেম্বর ২৩, ২০২৫, ০৮:৩০ পিএম
ঈশ্বরগঞ্জের পিআইও রেজাউল করিমকে ছাতকে বদলি

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বিতর্কিত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ রেজাউল করিমকে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। তার স্থলে এখনও স্থায়ীভাবে কাউকে পদায়ন না হলেও গৌরীপুর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আলাল উদ্দিনকে আপাতত অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

রোববার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রেজাউল করিম ইতোমধ্যেই ঈশ্বরগঞ্জ থেকে রিলিজ নিয়ে চলে গেছেন। কয়েক দিনের মধ্যেই অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত পিআইও আলাল উদ্দিন নতুন দায়িত্বে যোগ দেবেন।

এর আগে ২০ নভেম্বর দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের (ত্রাণ প্রশাসন) শাখার উপসচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে প্রশাসনিক কারণে রেজাউল করিমকে ছাতক উপজেলায় বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত ২৮ অক্টোবর ঈশ্বরগঞ্জের ১১ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এক সংবাদ সম্মেলনে পিআইও রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে উৎকোচ গ্রহণ, ভ্যাট-আয়করের নামে অর্থ আদায় এবং প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনের আগেও তারা বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেন। 

অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরের টিআর ও কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পের প্রতিটি কাজ থেকে ভ্যাট, আয়কর ও উৎকোচের নামে প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিল-ভাউচার ও মাস্টাররোল সমন্বয়ের জন্য প্রতিটি প্রকল্প থেকে অতিরিক্ত তিন হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগও আনা হয়েছে।

বদলি বিষয়ে জানতে চাইলে পিআইও রেজাউল করিম বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দাপ্তরিক কাজে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ও অযাচিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। তাই কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। এ কারণেই ৬ নভেম্বর বদলির আবেদন করি। এর বাইরে অন্য কোনো বিষয় নেই।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সানজিদা রহমান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে পিআইও রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট দপ্তর তাকে বদলির সিদ্ধান্ত নেয়।

চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো প্রভাব পড়বে কি না জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, “গৌরীপুরের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্ব নেওয়ায় টিআর, কাবিখা-কাবিটাসহ চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে না। ঈশ্বরগঞ্জের উন্নয়নকাজ সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে চলছে।”

ইএইচ