বন্যার পানি নামার পরও কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর ভাঙন কমেনি; বরং শুকনো মৌসুমের শুরুতেই ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকায় নদীর ধস নামায় দৌলতপুর ও ভেড়ামারার চরাঞ্চলে মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, মরিচা ইউনিয়নের ভুরকা–হাটখোলা থেকে কোলদিয়াড় পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার অঞ্চলসহ চিলমারী ইউনিয়নের বাংলাবাজার, আতারপাড়া, উদয়নগর এবং ভেড়ামারার জুনিয়াহ এলাকায় দ্রুতগতিতে নদীভাঙন বিস্তার লাভ করছে।
গত দেড় মাসে মরিচা ও চিলমারীর বিভিন্ন গ্রামে শত শত বিঘা কৃষিজমি, চার ফসলি মাঠ, বাগান, বসতঘরসহ বহু স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটোছুটি করছে।
ইতোমধ্যে ভারত–বাংলাদেশ ৫’শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন এবং মাত্র ৫’শ মিটার দূরে অবস্থিত রায়টা–মহিষকুন্ডি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধও মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। পাশাপাশি কোলদিয়াড় ও ভুরকাপাড়ার বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার এবং ধর্মীয় স্থাপনাও ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছর সীমিত পরিসরে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হলেও তা স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি। ফলে মরিচা ইউনিয়নের বিশাল অংশ এখনো সম্পূর্ণভাবে অরক্ষিত রয়ে গেছে। প্রতিদিনই নতুন জমি ও ঘরবাড়ি নদীতে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে হতাশা ও অসহায়ত্ব বাড়ছে।
নদীপাড়ের বাসিন্দারা জানান, “পদ্মা এখন দ্রুতগতিতে মহিষকুন্ডি–রায়টা বাঁধের দিকে এগিয়ে আসছে। প্রতিদিন কয়েক ফুট করে জমি হারিয়ে যাচ্ছে। এখনই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না করলে কয়েকটি গ্রাম মাটির মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি ভেঙে গেলে কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন এবং সামগ্রিক উৎপাদনও কমে যাবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই সিদ্দিকী জানান, জরুরি ভিত্তিতে রক্ষাবাঁধ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান জানান, ভাঙন এলাকা পরিদর্শন শেষে স্থায়ী ও অস্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন