সিলেট নগরীর উপশহর এলাকাজুড়ে আগামীকাল মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার জন্য সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) পূর্বঘোষিত এই লোডশেডিংয়ের সময়সূচি ঘোষণা করেছে।
প্রায় ১২ ঘণ্টার এই বিদ্যুৎবিচ্ছিন্নতা নগরীর উল্লেখযোগ্য অংশের মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পিডিবির বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২–এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুর রাজ্জাক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, উপশহর এলাকায় বিতরণ লাইনের বিভিন্ন অংশে পুরোনো যন্ত্রপাতি বদলানো, ট্রান্সফরমারের ত্রুটি মেরামত, সংযোগ লাইন শক্তিশালী করা এবং আশপাশের গাছপালার ডালপালা ছাঁটাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এসব কাজ নিরাপদে সম্পন্ন করতে হলে ওইসব এলাকায় সম্পূর্ণভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে। ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন থাকবে যেসব এলাকায়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ১১ কেভি উপশহর ফিডারের আওতাধীন প্রায় পুরো অঞ্চলে বিদ্যুৎ থাকবে না।
যেসব এলাকা সরাসরি এ কার্যক্রমের আওতায় আসছে, সেগুলো হলো, তেরোরতন পয়েন্ট, সি ব্লকের পূর্ণ এলাকা, সি ব্লকের প্রধান সড়ক, ডি ব্লক মাছ বাজার, উপশহরের পার্শ্ববর্তী অন্যান্য আবাসিক ও বাণিজ্যিক জোন।
উপশহর সিলেট নগরীর একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় এই বিদ্যুৎবিচ্ছেদ দিনের প্রায় পুরোটা সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অফিস–আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি, বাজার–ব্যবসা, শিক্ষার্থী ও গৃহিণীদের দৈনন্দিন কাজে এই দীর্ঘ অচলাবস্থা অসুবিধা তৈরি করতে পারে।
পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, বিদ্যমান ট্রান্সফরমারগুলোর মধ্যে কয়েকটি পুরোনো হয়ে যাওয়ায় এগুলো প্রতিস্থাপন জরুরি হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি সম্প্রতি অঞ্চলে বৈদ্যুতিক তারে গাছের ডালপালা লেগে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা বেড়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে পুরো লাইনটিকে সচল রাখার জন্য ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন, যা একদিনেই শেষ করা সম্ভব হলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা বাধ্যতামূলক।
তিনি বলেন, রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের সময় বিদ্যুৎ সক্রিয় রাখলে কর্মীদের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই গ্রাহকদের অসুবিধা হলেও নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে। ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের জন্য বিশেষ সতর্কতা।
পিডিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যারা চিকিৎসা সরঞ্জাম, ফ্রিজ–ফ্রিজার, অফিস সার্ভার বা বিদ্যুৎনির্ভর যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভরশীল, তাদের আগেভাগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে। বিশেষ করে হোটেল–রেস্তোরাঁ, আইটি অফিস, ওষুধ সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান এবং বাণিজ্যিক এলাকা যেন বিকল্প ব্যবস্থা রাখে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বাসাবাড়িতে খাবার সংরক্ষণ, মোবাইল ও ল্যাপটপ চার্জ দেওয়া, পানি তোলা এসব কাজ আগেই সেরে নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। আগেভাগে কাজ শেষ হলে দ্রুত বিদ্যুৎ দেওয়া হবে।
পিডিবি জানিয়েছে, পরিকল্পিত সময়ের আগেই যদি সংস্কার ও মেরামতের কাজ শেষ হয়ে যায়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা হবে। এ কারণে গ্রাহকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে নিয়মিত বিদ্যুৎ লাইন পর্যবেক্ষণ করতে এবং প্রয়োজন ছাড়া ইলেকট্রিক সুইচ অন অবস্থায় না রাখতে। গ্রাহকদের কাছে দুঃখপ্রকাশ।
এত দীর্ঘসময় বিদ্যুৎবিচ্ছিন্নতার কারণে নাগরিকদের যে অসুবিধা হতে পারে তা স্বীকার করে দুঃখপ্রকাশ করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুর রাজ্জাক।
তিনি বলেছেন, আমরা জানি ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকা যেকোনো এলাকার জন্য কষ্টদায়ক। তবে এই কাজগুলো সম্পন্ন হলে উপশহর এলাকায় বিদ্যুৎ আরও স্থিতিশীল হবে এবং বারবার লাইন ট্রিপিং বা লোডশেডিং কমে আসবে। রক্ষণাবেক্ষণ কেন প্রয়োজন, ব্যাখ্যা পিডিবির।
পিডিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণ–অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক এলাকায় লাইনের ওপর চাপ বেড়েছে। শুষ্ক মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি গরমের সময় হঠাৎ চাহিদা বৃদ্ধিতে লাইন অতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে পারে না। তাই শীত মৌসুম শুরুর আগেই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে বড় ধরনের সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিভ্রাট এড়ানো যায়।
পিডিবি আরও বলেছে, রক্ষণাবেক্ষণ কাজ না করলে পরবর্তী মৌসুমে ঘনঘন ত্রুটি, ট্রান্সফরমারের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং হঠাৎ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার মতো সমস্যা হতে পারে। তাই গ্রাহকদের নিরাপত্তা ও সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই কার্যক্রম অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন