ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে প্রেমঘটিত বিরোধকে কেন্দ্র করে মুক্তার মিয়া (২২) নামে এক তরুণকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় থানা পুলিশ অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলের এ হত্যাকাণ্ড স্থানীয় জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে, বিশেষত দু’টি গ্রামের মধ্যে পুরোনো সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
নিহত মুক্তার উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের কাঠালকান্দি গ্রামের কুটবী পাড়ার বাসিন্দা ইসলাম উদ্দিনের ছেলে। পরিবারের দাবি, মেয়েপক্ষ তাদের সম্পর্ক মেনে না নেওয়ার জের ধরেই মুক্তারকে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে চাতলপাড় ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের রাব্বান মিয়ার মেয়ে শেওলা আক্তার ও মুক্তার মিয়ার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের খবর দুই পরিবারেই জানাজানি হলে ছেলের পরিবার মেয়ের বাড়িতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের প্রস্তাব পাঠায়। কিন্তু মেয়েপক্ষ প্রথম দিন থেকেই এ সম্পর্কের বিরোধিতা করে।
বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষও ঘটে, যাতে মেয়ের পরিবারের কয়েকজন আহত হন। ঘটনাটি আদালত অবধি গড়ায়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্যদের হস্তক্ষেপে যে কোনোভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। কিন্তু পারিবারিক ক্ষোভ রয়ে যায় ভেতরে ভেতরে।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে সবকিছুই আবার ভয়াবহ আকার নেয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায় মুক্তার মিয়া নিজের অটোরিকশা নিয়ে চাতলপাড় বাজার থেকে কচুয়ার দিকে যাচ্ছিলেন। তার সঙ্গে নাকি ছিলেন শেওলা আক্তারও।
তারা কচুয়ার কাছাকাছি পৌঁছালে রাস্তার ওপর আগেই ওঁৎ পেতে থাকা ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল মুক্তারকে থামায়। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন মেয়ের বড় ভাই শাহআলম (স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী আলমগীর নামেও পরিচিত)। কথাবার্তার সুযোগ না দিয়েই দলটি ধারালো অস্ত্র নিয়ে মুক্তারের ওপর হামলে পড়ে।
মুক্তারের হাত–পা এবং পেটে এলোপাতাড়ি কোপ মারায় মুহূর্তেই রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বলে পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রের দাবি।
আহত অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত তাকে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বড় ভাই আক্তার হোসেন জানান, আমার ভাই শেওলাকে পছন্দ করত, আমরা সসম্মানে বিয়ের প্রস্তাবও দিয়েছিলাম। কিন্তু মেয়ের পরিবার সেই সম্পর্ককে কখনও ভালোভাবে নেয়নি। কয়েকবার আলমগীর তাকে মারধরও করেছে। আজকে সুযোগ বুঝে ভাইকে হত্যা করেছে। আমরা এর বিচার চাই।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সেদিন তারা দুজন একসাথে যাওয়ার কথা জানাজানি হওয়ায় আগেই রাস্তার পাশে ঘাতকরা লুকিয়ে ছিল। পরিকল্পনা আগেই ঠিক করা ছিল বলেই তিনি মনে করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়ে পড়লে পরিস্থিতি অনিয়ন্ত্রিত হওয়ার আশঙ্কায় নাসিরনগর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকছুদ আহাম্মদ বলেন, ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন