শস্য দেবতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে ও ভালো ফসল ফলনের ওপর নির্ভর করে শেষ হয়েছে গারো সম্প্রদায়ের দুই দিনব্যাপী ওয়ানগালা বা নবান্ন উৎসব।
নেত্রকোণার কলমাকান্দা সীমান্তে বসবাসরত গারো সম্প্রদায়ের মানুষ পাঁচগাঁও সেন্ট পিটার্স চার্চ সাব প্যারিস গীর্জা মাঠে দিনব্যাপী প্রার্থনা, আলোচনা, নাচ-গানে পালন করেছে তাদের সবচেয়ে বড় উৎসব ওয়ানগালা।
অনুষ্ঠানে চয়ন রিছিলের সভাপতিত্বে উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ পিসিসি সংস্থার পরিচালক সিলভেস্টার গমেজ। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের কথাসাহিত্যিক উপসচিব মঈনুল হাসান, বাংলা একাডেমি কবি, পরিচালক, সংস্কৃতি, পত্রিকা ও মিলনায়তন বিভাগের ড. সরকার আমিন এবং কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাইযুল ওয়াসীমা নাহাত।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিএনপির কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
শুক্রবার সকাল থেকে ধর্মীয় আচার পালন করা হয়। এছাড়াও নিজস্ব ভাষায় গান গেয়ে শোনান গারো শিল্পীরা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল নতুন ফসল উৎসর্গ ও গারোদের ঐতিহ্যবাহী জুম নাচ।
উৎসবে নারী-পুরুষরা তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করেন। কারও মাথায় ছিল কারুকাজ করা 'খুতুপে' পাগড়ি, আবার কেউ পরেছিলেন মোরগের পালক দিয়ে বানানো বিশেষ অলংকার 'দমি'। মাঠ জুড়ে সাজানো হয়েছে অস্থায়ী দোকানও। এতে পাওয়া গেছে আদিবাসীদের নিজ হাতে তৈরি ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও খাবার।
এই উৎসব নেত্রকোনার বিরিশিরি কালচারাল একাডেমির আয়োজনে এবং কলমাকান্দার আলোক ও ইসিএলআরসি প্রকল্পের সহযোগিতায় উদযাপন হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিরিশিরি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কালচারাল একাডেমি ভারপ্রাপ্ত কালচারাল অফিসার মালা আরেং, কলমাকান্দা শাখা ট্রাইব্যাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মুকুট স্নাল, সুজিত মানখিন, বুলবুল মানখিন, কপোতি ঘাগ্রা প্রমুখ।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন