আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে পৃথকভাবে গণভোট আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, সরকারকে সংকটে ফেলতে চান না, তবে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হবে। তাই নির্বাচনের আগে গণভোটের তারিখ আলাদাভাবে ঘোষণা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
রোববার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে জামায়াতসহ আন্দোলনরত আট দলের বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এ দাবি তোলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেতরে ‘কুপরামর্শদাতাদের’ প্রভাবে একদিনে দুই ভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “সরকারের গেজেট তো ওহীর বাণী নয়; প্রয়োজন হলে তা পরিবর্তন করতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট দিন ঘোষণা করুন।”
এ সময় তিনি জুলাই জাতীয় সনদ সংক্রান্ত সাংবিধানিক আদেশ জারির জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান; তবে সনদের বিষয়বস্তুর বিষয়ে জনগণকে পরিষ্কার ধারণা না দেওয়ার সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়া গণভোটে নেওয়া হলে সাধারণ ভোটার বিভ্রান্ত হবেন।
খুলনায় আদালত চত্বরে প্রকাশ্যে গুলি ও কুপিয়ে দুইজনকে হত্যার সাম্প্রতিক ঘটনার নিন্দা জানিয়ে পরওয়ার বলেন, ওই প্রশাসন যদি আদালতের সামনে হত্যাকাণ্ড ঠেকাতে না পারে, তবে নির্বাচনের দিনে ভোট ডাকাতি ঠেকাতে পারবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে উদ্দেশ করে বলেন, “২০১৪, ১৮ ও ২৪ সালের নির্বাচনে যারা ভোট ডাকাতিতে জড়িত ছিল, তাদের জবাবদিহি হয়েছে। এবারও একই পথ বেছে নিলে পরিণতি ভোগ করতে হবে।”
তিনি দাবি করেন, আন্দোলনরত আট দলীয় জোটে নতুন রাজনৈতিক দল যুক্ত হচ্ছে এবং এ জোট দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও দমন-পীড়নমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত সংসদ গঠন করাই হবে তাঁদের লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, “আগামী সংসদ হবে কোরআনের সংসদ। সচিবালয়, সংসদ, বিচারালয় সবকিছু কোরআনের আলোকে পরিচালিত হবে।”
সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির নেতারাও বক্তব্য দেন।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন