কেন্দুয়ায় প্রাথমিক শিক্ষকদের কর্মবিরতি, বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন: ইউএনওর কঠোর বার্তা

কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৩, ২০২৫, ০৪:২৫ পিএম
কেন্দুয়ায় প্রাথমিক শিক্ষকদের কর্মবিরতি, বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন: ইউএনওর কঠোর বার্তা

নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মবিরতি ও বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি পালন করছেন সহকারী শিক্ষকবৃন্দ। 

বুধবার দুপুরে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি ও প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের যৌথ উদ্যোগে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস প্রাঙ্গণে তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের তিন দফা দাবি হলো, সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল দশম গ্রেডে নির্ধারণ; ১০ বছর ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির বিষয়ে জটিলতার অবসান; এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি।

সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় কেন্দুয়া প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং মাসকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনিরুল ইসলাম খান কাজল এর সাথে। 

তিনি বলেন, ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তাদের তিন দফা দাবির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে সরকারিভাবে প্রজ্ঞাপন জারির কথা বলে তাদের সাথে চলচাতুরী করা হয়েছে। তারই প্রেক্ষিতে উপজেলার ১৮২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাদের এই কর্মসূচি চলছে। 

বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করে কোমলমতি শিশুদের পড়াশোনার ব্যাঘাত সৃষ্টি করছেন এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তারা বুঝতে পারছেন কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যাঘাত হচ্ছে। তবে কথা দেন, তাদের দাবি মেনে নিলে তারা বন্ধের দিন হলেও পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে নিবেন।

কেন্দুয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আফতাব উদ্দিনকে মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করে না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল ইসলাম বলেন, তিনি গতকাল তার ফেসবুক আইডি থেকে উপজেলার প্রাথমিকের সকল শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে একটি পোস্ট দিয়ে অতীব জরুরি নির্দেশনা দিয়েছিলেন, যেখানে বলা ছিল কিছুতেই যেন প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষার বিঘ্ন না ঘটে। কিন্তু আজ অনেক শিক্ষকরা পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করছেন। এই ব্যাপারে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি। নেত্রকোনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল আজম কেন্দুয়ার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন এবং কোথাও কোনো পরীক্ষা হয়নি বলে জানান। 

তিনি আরও বলেন, আপনাদের দাবি সমূহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করা হবে।

ইএইচ