বরিশালে অবৈধ বালুমহলে নদী ভাঙনের ঝুঁকি

বরিশাল ব্যুরো প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৩, ২০২৫, ০৮:০৪ পিএম
বরিশালে অবৈধ বালুমহলে নদী ভাঙনের ঝুঁকি

বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জে মেঘনা নদীর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলায় হুমকির মুখে পড়েছে হিজলার গৌরবদী ও মেহেন্দীগঞ্জের গবিন্দপুর ও উলানিয়া ইউনিয়নের বিশাল এলাকা। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, আগামী বর্ষায় নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে কয়েক হাজার পরিবার, কৃষিজমি এবং সরকারের ৪২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রক্ষাবাঁধ।

হাইকোর্টে রিট থাকা সত্ত্বেও জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় কমিশনার ১০০ একরসহ সাতটি বালুমহল অবৈধভাবে ইজারা প্রদান করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৫ আগস্ট থেকে প্রতিদিন ১৫০-২০০ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে নদী ভাঙন দ্রুত বাড়ছে। স্থানীয়রা বলছেন, রক্ষকই যখন ভক্ষকের ভূমিকায়, তখন জনগণের জানমাল রক্ষা করবে কে?

হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ ও বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ ১২ নভেম্বর জারি হলেও কাজ হচ্ছে না। স্থানীয়রা ও রিটকারী সৈয়দ আকবর আলী চৌধুরী প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ করেছেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী রফিকুল আলম বলেন, জরিপ ছাড়া বালুমহল ঘোষণা আইনবিরোধী। এতে নদী ভাঙন ও পরিবেশ ধ্বংসের ঝুঁকি তৈরি হয়। হাইকোর্টের নির্দেশ মানা হয়নি এটি গুরুতর অন্যায়।

বরিশালে ৮টি বালুমহলের মধ্যে ৭টিতেই কোনো জরিপ হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন হাইড্রোগ্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান। অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোস্টগার্ড ১১ মে বিশেষ অভিযানে ৫৩টি ড্রেজার, ৩৬টি বাল্কহেড, এক কোটি ১২ লাখ টাকাসহ ছয়জনকে আটক করেছে। নবাগত জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন বলেন, আমি বিষয়গুলো জানছি। নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

এলাকার সচেতনরা দাবি করেছেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য ও অবৈধ ইজারায় জড়িত কর্মকর্তাদের দ্রুত তদন্ত করে শাস্তির আওতায় আনা হোক।

জেএইচআর