চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে নভেম্বর মাসে বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৮৮ জনকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেছে মডেল থানার পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ মাদক, অস্ত্রসহ কার্তুজ ও হারিয়ে যাওয়া মুঠোফোন। এছাড়াও পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে নিখোঁজ হওয়া ৮ জন ব্যক্তিকে।
বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া।
তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে নিয়মিত মামলায় ৩৭ জন, জিআর ওয়ারেন্ট ৮ জন, সিআর ওয়ারেন্ট ২১ জন, জিআর সাজা ২ জন, সিআর সাজা ৭ জন, ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৫১ ধারায় ৫ জন, পুলিশ আইনে ৩ জন এবং ফৌঃ কাঃ বিঃ ৫৪ ধারায় ৫ জন। তাদের সবাইকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এছাড়াও পুলিশের অভিযানে ৫০ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ, ১৯ বোতল বিদেশি মদ (যার ওজন ১৪.২৫ লিটার), ৫১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২০ কেজি গাঁজা এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ১টি বাস উদ্ধার করা হয়। তাছাড়া একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ৯টি হারানো মোবাইল উদ্ধারপূর্বক প্রকৃত মালিকের নিকট হস্তান্তর এবং ৮ জন নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধার করে তাদের নিজ নিজ অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হয়।
অন্যদিকে হাটহাজারী উপজেলার মদুনাঘাট ব্রীজের পশ্চিম পাশে চাঞ্চল্যকর হাকিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় ২ জন আসামির স্বীকারোক্তিতে আরও ৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ এবং তাদের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রাউজান থেকে ৪টি বিদেশি পিস্তল, ১টি চায়না রাইফেল, ১টি রিভলবার, ৭টি পিস্তলের খালি ম্যাগাজিন, ১৯ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ৪৯ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ১৭ রাউন্ড কার্তুজ, ১টি রকেট ফ্লেয়ার, ২টি রামদা, ৫টি ছুরি, ৪১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ২৫০ গ্রাম গাঁজা এবং মাদক বিক্রয়ের ৯৭ হাজার ১০০ টাকা উদ্ধার করে রাউজান থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশের অভিযানের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো ১৬টি মামলার আসামি স্থানীয় যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ হানিফকে গ্রেপ্তার করা। হাটহাজারী থানাধীন ১ নং দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের ফকির খীল এলাকার সুলতান কোম্পানির বাড়ীর সামনে সিএনজি থেকে একজন পুরুষের লাশ ফেলে চলে যাওয়ার ঘটনায় চার ঘণ্টার মধ্যে জড়িত ৩ জনকে আটক করা। কুয়াইশ অনন্যা আবাসিক এলাকায় জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের তার চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় চোরাই তারসহ ২ জন চোরকে হাতেনাতে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করা।
পুলিশের অভিযানে যাতে কোনো নিরীহ মানুষ ভোগান্তিতে না পড়ে, এই বিষয়টি আমলে নিয়ে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষার্থে ও নিরাপত্তা নিশ্চিত কারণে অপরাধীদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন