চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ১৫২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৮টিতেই বর্তমানে প্রধান শিক্ষক নেই। পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদ রয়েছে আরও ১৬টি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানিয়েছে, বদলি ও অবসরের কারণে এসব পদ শূন্য হয়েছে। ফলে বহু বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদেরই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি পাঠদানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
একজন সহকারী শিক্ষক জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গেলে অনেক সহকর্মী তা মানতে চান না। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কাজ সামলাতে গিয়ে নিয়মিত পাঠদানের সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি, পটিয়া উপজেলার সিনিয়র সহ-সভাপতি সেলিম উদ্দীন বলেন, সরকার আন্তরিক হলে এই সমস্যা সহজেই দূর করা যায়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে শূন্য পদগুলোতে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে যেন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। সে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
পটিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিশ্বজিত কর্মকার বলেন, প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি অথবা সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে শূন্যপদ পূরণ করার সুযোগ আছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। আশা করি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সিনিয়র সাংবাদিক মোরশেদ আলম বলেন, “পটিয়ার সরকারি প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক সংকট একটি স্থায়ী সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৫২টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৮টিতে প্রধান শিক্ষক না থাকা শুধু প্রশাসনিক অচলাবস্থাই তৈরি করছে না, শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিক্ষা অধিকারকেও ব্যাহত করছে। সহকারী শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই টেকসই সমাধান নয়। শিক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হলে প্রথমেই শিক্ষক সংকট দূর করা জরুরি। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে শূন্যপদ পূরণ করতে হবে। অন্যথায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যার নেতিবাচক প্রভাব পুরো সমাজকেই বহন করতে হবে।”
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন