প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে চিকিৎসকের আত্মহত্যা

মো. মহসিন তালুকদার, মাদারীপুর প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৯, ২০২৫, ০৬:৩৭ পিএম
প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে চিকিৎসকের আত্মহত্যা

মাদারীপুরে অনিক আশ্চর্য (৩৫) নামে এক চিকিৎসক তাঁর প্রেমিকা বা স্ত্রীকে মোবাইলে ভিডিও কলে রেখে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে জেলার রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট বন্দরের শিমুলতলা এলাকার ভাড়া বাসায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত অনিক আশ্চর্য ছিলেন একই উপজেলার বাজিতপুর গ্রামের গ্রাম্য চিকিৎসক অঞ্জন আশ্চর্যের ছেলে। তিনি পাশ্ববর্তী এক নম্বর ব্রিজ এলাকার সিটি হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জরুরি বিভাগের (ডিএমএফ) চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মঙ্গলবার সকালে পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে।

পুলিশ, হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনিক প্রায় আট বছর ধরে টেকেরহাট সিটি হসপিটালে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক হিসেবে কাজ করতেন। তিনি এবং একই প্রতিষ্ঠানের এক্স-রে অপারেটর নৃপেন টেকেরহাট নূর জাহান কমিউনিটি সেন্টারের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন।

সোমবার রাতে রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান শেষে অনিক বাসায় ফেরেন, অন্যদিকে তাঁর রুমমেট নৃপেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি গানের অনুষ্ঠানে যান। রাত সাড়ে ১২টার দিকে নৃপেন এসে চা খাওয়ার জন্য অনিককে ডাকতে গেলে রুমের দরজা বন্ধ পান। ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে দরজার ফাঁকা দিয়ে উঁকি দিয়ে তিনি অনিককে সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। নৃপেন দ্রুত সিটি হসপিটালের মালিকপক্ষ ও পুলিশকে খবর দেন।

পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দরজা ভেঙে অনিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। সে সময় তাঁর মোবাইল ফোনে সর্বশেষ এক নারীর সাথে মেসেঞ্জারে ভিডিও কলে কথা বলার প্রমাণ পাওয়া যায়। পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, মোবাইল ফোনে প্রেমিকা/স্ত্রীর সাথে ঝগড়ার জেরে তিনি ওই নারীকে ভিডিও কলে রেখেই আত্মহত্যা করেছেন।

সিটি হসপিটালের মালিকপক্ষ আনিসুর রহমান জানান, অনিক ৮/১০ বছর ধরে তাঁদের প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন এবং তিনি একটি প্রেমের সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। গতকাল রাতে ওই প্রেমিকার সাথে ঝগড়ার জেরে তিনি ভিডিও কলে রেখেই আত্মহত্যা করেছেন।

মাদারীপুরের রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আমিনুল ইসলাম জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে আজ সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রেমঘটিত কারণে মোবাইলে ভিডিও কলে রেখে আত্মহত্যা করেছেন।

ওসি আরও জানান, কেউ বলছে কথিত স্ত্রী, আবার কেউ বলছে প্রেমিকা। যতটুকু জানা গেছে, অনিক একজন মুসলিম মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন। পুলিশ মোবাইলের মেসেঞ্জারে কথা বলা সেই নারীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। এই নারীকে খুঁজে পেলে অনিকের আত্মহত্যার বিষয়ে অনেক কিছু জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হয়েছে।

জেএইচআর