গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের ২নং নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস (১৪ ডিসেম্বর) পালিত না হওয়ায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার দায়িত্বশীলতা ও সচেতনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রোববার বেলা ১১টায় বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে কোনো ধরনের কর্মসূচি, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল কিংবা পতাকা উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হুমায়ূন আহমেদকে সরেজমিনে পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, “বিদ্যালয়টি আগামী ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে এবং ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হবে।” তবে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালনের কোনো নির্দেশনা তিনি পাননি বলেও দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি ১৪ ডিসেম্বর কী দিবস সে বিষয়েও অবগত নন বলে মন্তব্য করেন, যা উপস্থিতদের মধ্যে বিস্ময়ের সৃষ্টি করে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিন সাংবাদিকদের জানান, “শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবস। এ উপলক্ষে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে যথাযথভাবে দিবসটি পালনের জন্য জোরালো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান দিবসটি পালন না করে থাকে, তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যথাযথ মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হলেও ২নং নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে দিবসটি উপেক্ষিত হওয়ায় অভিভাবক ও সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, জাতির ইতিহাস ও চেতনাবোধ শিক্ষার্থীদের মাঝে জাগ্রত করার ক্ষেত্রে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের অবহেলা শিক্ষার্থীদের জাতীয় চেতনাবোধ গঠনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতীয় দিবস পালনে অবহেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি তদন্ত করে দায়িত্বে অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর তদারকি জোরদার করা জরুরি।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন