রাজশাহী বিভাগে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে কোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ নেই বলে জানিয়েছেন রাজশাহী বিভাগের কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ। অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত প্রথম বিভাগীয় নির্বাচনী সমন্বয় সভা শেষে বুধবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
বুধবার বিকেলে রাজশাহী সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে এই সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি সন্তোষজনক রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে আছে।
ড. বজলুর রশীদ জানান, সমন্বয় সভায় রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি, মহানগর পুলিশ কমিশনার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ বিভাগের আট জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপাররা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, র্যাব, সেনাবাহিনী এবং নির্বাচন কাজে নিয়োজিত মাঠ পর্যায়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাও সভায় অংশ নেন।
তিনি বলেন, জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আমরা বাস্তবভিত্তিক মতামত ও পরামর্শ পেয়েছি। এসব পরামর্শ নোট করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ সরকারের কাছে পাঠানো হবে।
বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে চাই। এ বিষয়ে কোনো ধরনের শৈথিল্যের সুযোগ নেই। তিনি জানান, সভায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়ন এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী পরিবেশ সুশৃঙ্খল রাখতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে, নির্বাচনী এলাকা থেকে অবৈধ পোস্টার, ব্যানার ও ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ও সীমান্ত অপরাধ রোধে টাস্কফোর্স অপারেশন জোরদার করা সাজাপ্রাপ্ত ও দাগি আসামিদের গ্রেপ্তারে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ অব্যাহত রাখা প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে প্রচারণা জোরদার করা ও গণভোট ও পোস্টাল ব্যালট বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. শাজাহান বলেন, লুট হওয়া সরকারি অস্ত্রগুলোর সব এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এসব অস্ত্র উদ্ধার একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও জেলা পুলিশ সুপারদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, কারা এসব অস্ত্র ছিনতাই করেছে এবং বর্তমানে সেগুলো কার কাছে রয়েছে তা শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন