যুবককে পুড়িয়ে হত্যা: ধর্ম অবমাননার প্রমাণ মেলেনি

আব্দুল্লাহ আল আমীন, ময়মনসিংহ প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২০, ২০২৫, ১০:২৮ পিএম
যুবককে পুড়িয়ে হত্যা: ধর্ম অবমাননার প্রমাণ মেলেনি

ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দিপু চন্দ্র দাস নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহে আগুন দেওয়ার ঘটনায় কোনো প্রমাণ পায়নি র‍্যাব। 

শনিবার দুপুরে র‍্যাব-১৪ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব ও পুলিশ।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে র‍্যাব অভিযান চালিয়ে ৭ জনকে এবং জেলা গোয়েন্দা ও থানা পুলিশ যৌথ অভিযানে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. তারেক হোসেন, মো. লিমন সরকার, মো. মানিক মিয়া, এরশাদ আলী, নিঝুম উদ্দিন, আলমগীর হোসেন, মো. মিরাজ হোসেন আকন্দ, মো. আজমল হাসান সগীর, মো. শাহিন মিয়া ও মো. নাজমুল।

র‍্যাব-১৪-এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে ভালুকার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় দিপু চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে তাকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে তার মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তবে তদন্তে দিপুর বিরুদ্ধে ধর্ম নিয়ে কটূক্তির কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ ধরনের কোনো পোস্টের অস্তিত্ব মেলেনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঘটনার সময় পাইওনিয়ার নিট কম্পোজিট কারখানার ফ্লোর ম্যানেজার আলমগীর হোসেন ও ইনচার্জ মিরাজ হোসেন আকন্দ পরিস্থিতি সামাল না দিয়ে দিপুকে বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে তুলে দেন। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অপরাধে এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় পুলিশকে না জানানোয় তাদেরও গ্রেপ্তর করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারো নেই। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।” বর্তমানে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ইএইচ