পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃক জমাট বাঁধা ইউরিয়া সার সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এতে সারের গুণগত মান এবং কার্যকারিতা নিয়ে স্থানীয় কৃষক ও উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে কৃষি বিভাগ দাবি করছে, জমাট বাঁধলেও সারের মানে কোনো পরিবর্তন হয় না।
জানা যায়, চলতি রবি ও বোরো মৌসুমে উপজেলার ৭ জন নিবন্ধিত ডিলারকে ২৫ মেট্রিক টন করে ইউরিয়া সার বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত সপ্তাহে পাবনার নগরবাড়ী বিসিআইসি গুদাম থেকে এই সার সরবরাহ করা হলে দেখা যায় অধিকাংশ সারই জমাট বাঁধা।
ডিলারদের অভিযোগ, নগরবাড়ী গুদামে সার সংরক্ষণে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে সারের এই দশা হয়েছে।
উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞরা এই সারের কার্যকারিতা নিয়ে নেতিবাচক মত দিয়েছেন। সরকারি ভাঙ্গুড়া হাজী জামাল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. রবিউল করিম বলেন, "আর্দ্র পরিবেশে অক্সিজেনের অভাবে সার জমাট বাঁধলে তার বুনন নষ্ট হয়ে যায়। এমন সার জমিতে প্রয়োগ করলে মাটির ব্যাকটেরিয়া প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান গ্রহণ করতে পারে না। ফলে কৃষকরা ফসলের কাঙ্ক্ষিত ফলন পাবেন না।"
ডিলার নুরুল ইসলাম স্বীকার করেছেন যে, তার বরাদ্দকৃত ৫০০ বস্তা সারই জমাট বাঁধা অবস্থায় এসেছে। অন্যদিকে, প্রতিবাদ করলে ডিলারশিপ বাতিলের ভয়ে অনেকে মুখ খুলছেন না বলে জানা গেছে।
তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন জাহান বলেন, "ইউরিয়া সার জমাট বাঁধা অবস্থায় এসেছে বলে শুনেছি। সার জমাট বাঁধতেই পারে, এতে গুণগত মানের কোনো সমস্যা হয় না। তাই ডিলারদের এগুলো বিক্রি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।"
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন