নাটোরে পপুলার লাইফের প্রতারণা: টাকা না পেয়ে দিশেহারা শত শত গ্রাহক

আব্দুল মজিদ, নাটোর প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২২, ২০২৫, ০৫:২৬ পিএম
নাটোরে পপুলার লাইফের প্রতারণা: টাকা না পেয়ে দিশেহারা শত শত গ্রাহক

নাটোরে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির বিরুদ্ধে বীমার মেয়াদ শেষে গ্রাহকদের টাকা ফেরত না দিয়ে চরম প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। বছরের পর বছর নিয়মিত প্রিমিয়াম পরিশোধ করেও পাওনা টাকা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন শতাধিক গ্রাহক। 

প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার না মেলায় জনমনে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার দীর্ঘ সময় পার হলেও কোম্পানি নানা অজুহাতে টাকা দিচ্ছে না। 

লালপুর উপজেলার শাহিদা খাতুন কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “দুই বছর আগে আমার ফিক্সড ডিপোজিটের মেয়াদ শেষ হয়েছে। আমার স্বামী ক্যান্সারে আক্রান্ত, চিকিৎসার টাকার জন্য অফিসে ঘুরে ঘুরে আমি ক্লান্ত। বীমা করার সময় মিষ্টি কথা বললেও এখন তারা শুধু ঘোরাচ্ছে আর অপমান করছে।” 

একই অভিযোগ করেন ডা. জিল্লুর রহমান এবং বাগাতিপাড়ার রানী আহমেদ। তারা জানান, জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো ফল পাননি।

পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের নাটোর অফিসের ইনচার্জ গোলাম সারোয়ার দায় এড়িয়ে বলেন, “ফাইল প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে চেক না এলে আমাদের কিছু করার থাকে না। সময়মতো টাকা দিতে না পারায় আমরাও মাঠপর্যায়ে অপমানিত হচ্ছি।” 

তবে কোম্পানির উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

এ প্রসঙ্গে নাটোর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আমানত রেখে মেয়াদ শেষে টাকা না দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। সরকার যেখানে বীমা খাতে মানুষকে উৎসাহিত করছে, সেখানে এমন প্রতারণা পুরো খাতের ওপর আস্থাহীনতা তৈরি করবে।”

নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহিন এ বিষয়ে বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রাহক প্রতারিত হয়ে থাকলে তদন্তপূর্বক দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে ভুক্তভোগীরা দ্রুত তাদের (গ্রাহকদের সাধারণ দল হিসেবে) কষ্টার্জিত টাকা ফেরত পেতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ইএইচ