টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তিন ফসলি কৃষিজমির উর্বর মাটি দেদারছে চলে যাচ্ছে ইটভাটায়। উর্বর মাটি কাটার এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন।
সোমবার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এক মাটি ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধনবাড়ী পৌরসভাসহ ৭টি ইউনিয়নে ইট পোড়ানোর মৌসুম শুরু হতেই স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র কৃষিজমিতে ভেকু বসিয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট গভীর করে মাটি বিক্রি করছে। এক জমির মাটি কাটায় পাশের জমি নিচু হয়ে ধসে পড়ার উপক্রম হওয়ায় অন্য কৃষকরাও মাটি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ধোপাখালী, মঠবাড়ী, যদুনাথপুর ও বানিয়াজানসহ বিভিন্ন এলাকায় ড্রাম ট্রাকের অবাধ চলাচলে গ্রামীণ সড়কগুলোরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
বানিয়াজান ও যদুনাথপুর এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানা, আব্দুল বাতেন ও কৃষক সোহরাব আলীসহ স্থানীয়রা জানান, প্রভাবশালীদের দাপটে কৃষিজমি রক্ষায় তারা অসহায় হয়ে পড়েছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার ধনবাড়ী পৌরসভার সিংগাটা (চাতুটিয়া) এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। সেখানে আইন অমান্য করে মাটি কাটার দায়ে হেলাল উদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সায়েম ইমরান। এরপর যদুনাথপুরের নেটামশারা এলাকায় সড়কের ওপর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নির্মাণ সামগ্রী রাখার দায়ে অভিযান চালানো হলে কারখানা কর্তৃপক্ষ পালিয়ে যায়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সায়েম ইমরান সাংবাদিকদের জানান, "ফসলি জমির মাটি কাটার অপরাধে একজনকে সতর্কতামূলক জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এবং কৃষিজমি রক্ষায় উপজেলার প্রতিটি এলাকায় আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।"
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন