নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে ধর্ম পরিবর্তন করে দুই তরুণীকে বিয়ের পর প্রতারণা ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে অর্জুন ধর হীরা ওরফে মো. হীরা মিয়া (৩২) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাবেক স্ত্রী (মুসলিম তরুণী) বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে মামলা করেছেন। আদালত মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য সিআইডি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে হিন্দু ধর্মাবলম্বী অর্জুন ধর হীরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ‘মো. হীরা মিয়া’ নাম ধারণ করেন এবং এক মুসলিম তরুণীকে বিয়ে করেন। এই দম্পতির আট বছরের সংসার জীবনে একটি কন্যাসন্তান ও একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। তবে ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে হীরা আবারও ধর্ম পরিবর্তন করে এক হিন্দু তরুণীকে বিয়ে করেন। এই ঘটনা নিয়ে দাম্পত্য কলহ শুরু হলে চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল তিনি প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স দেন।
ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ, ডিভোর্সের পর গত ১৮ জুলাই রাতে হীরা মিয়া তাঁর বাসায় ঢুকে তাঁকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা করলে পিবিআই-কে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তবে পিবিআইয়ের দাখিলকৃত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী গত সপ্তাহে ‘নারাজি’ আবেদন করেন।
তার দাবি, তদন্ত কর্মকর্তা অভিযুক্তের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মনগড়া ও পক্ষপাতমূলক তথ্য দিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি সিআইডিকে পুনঃতদন্তের দায়িত্ব দেন।
নেত্রকোণা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক মো. চান মিয়া বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতের নির্দেশে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
অভিযুক্ত অর্জুন ধর হীরা নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলার শালদীঘা এলাকার মৃত জয়কৃষ্ণ ধরের ছেলে। বর্তমানে তিনি মোহনগঞ্জ পৌরশহরের দৌলতপুরে বসবাস করছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এদিকে ধর্ম বদল ও বাবার প্রতারণামূলক আচরণের কারণে সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও পরিচয় নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন ভুক্তভোগী ওই নারী।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন