নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিবের ভুয়া সিল-স্বাক্ষর জাল করে ১৩ জন ‘রোহিঙ্গা’ নাগরিককে জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়ার অভিযোগে মওদুদ আহমেদ শাওন (৩৫) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শাওন গাগলাজুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) উদ্যোক্তা ঝর্ণা আক্তারের স্বামী।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সাত দিনের রিমান্ড আবেদনসহ শাওনকে আদালতে পাঠানো হলে বিজ্ঞ বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে বুধবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের সামনের একটি দোকান থেকে তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় গাগলাজুর ইউনিয়নের সচিব রাজিব মিয়া বাদী হয়ে বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, শাওন দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের বিভিন্ন আইসিটি সংক্রান্ত কাজ করে আসছিলেন। এই সুযোগে তিনি সরকারি ওয়েবসাইটের পাসওয়ার্ড ও নিয়ন্ত্রণ কব্জা করেন। প্রভাব খাটিয়ে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের কাজও তিনি নিয়ন্ত্রণ করতেন।
অভিযোগ রয়েছে, চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সিল স্বাক্ষর নকল করে দীর্ঘ দিন ধরে তিনি ভুয়া জন্মনিবন্ধন বাণিজ্য চালিয়ে আসছিলেন। এই অবৈধ পথে আয় করা অর্থে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন জানান, অন্য জেলার ১৩ জন নাগরিককে এখানকার জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়া হয়েছে, যাদের প্রাথমিকভাবে রোহিঙ্গা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শাওন দাবি করেছিলেন, যে তার ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড হ্যাক হয়েছে, তবে প্রাথমিক তদন্তে সেই দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন বলেন, "আমি যোগদানের পরই আইসিটি সংক্রান্ত সব পাসওয়ার্ড নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিলাম। ভুয়া নিবন্ধনের বিষয়টি ধরা পড়ার পরপরই তাকে আটকের নির্দেশ দেওয়া হয়।"
জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং জেলার অন্য কোথাও যেন এমন জালিয়াতি না ঘটে সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন