দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। জেলার ওপর দিয়ে বইতে শুরু করেছে মৌসুমের প্রথম মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। কনকনে ঠান্ডা, হিমেল বাতাস আর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে গেছে এ অঞ্চলের স্বাভাবিক জনজীবন।
শুক্রবার সকালে চুয়াডাঙ্গায় ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে এই জেলায় সর্বনিম্ন।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, আজ ভোর ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ডের সময় বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। বর্তমানে জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষ। জীবিকার তাগিদে হাড়কাঁপানো শীত উপেক্ষা করেই কাজে বের হতে হচ্ছে দিনমজুর, ভ্যানচালক ও শ্রমিকদের।
শহরের হোটেল ব্যবসায়ী আব্বাস আলী জানান, "ভোরে পানিতে হাত দিলে মনে হয় হাত অবশ হয়ে যাচ্ছে, পেটের দায়ে তাও কাজ করতে হচ্ছে।" বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের দেখা মিললেও উত্তুরে হাওয়ার কারণে শীতের দাপট কমছে না।
এদিকে শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলাজুড়ে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগব্যাধি। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোটাভাইরাসজনিত ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ জন রোগী শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন সমস্যার চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন