তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে চট্টগ্রামজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার প্রয়াণের খবরে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
মঙ্গলবার সকালে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই শোকার্ত নেতাকর্মীরা নগরীর নুর আহমদ সড়কের নাসিমন ভবনের সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন। দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন।
সকালে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে প্রয়াতের আত্মার শান্তি কামনায় কোরআন খতম, দোয়া মাহফিল ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন মসজিদেও বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত সম্পন্ন হয়।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি আজীবন মানুষের ভোটাধিকার এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য আপসহীন সংগ্রাম করে গেছেন।
তিনি দেশ ও জাতির জন্য দীর্ঘদিন যে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তা জাতীয় ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। মেয়র তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে দেশবাসীকে ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানান।
এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরের পক্ষ থেকেও গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান এক সমাবেশে বলেন, জাতি আজ একজন আদর্শ দেশপ্রেমিক ও আধিপত্যবাদবিরোধী নেত্রীকে হারাল। ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনে তার অগ্রণী ভূমিকা দেশবাসী আজীবন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এক শোকবার্তায় বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি মানুষের মানবাধিকার ও ভোটাধিকারের জন্য লড়াই করতে গিয়ে জেল-জুলুম সহ্য করেছেন কিন্তু কখনো আপস করেননি। শহীদ জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত চট্টগ্রামকে তিনি অত্যন্ত ভালোবাসতেন এবং এই অঞ্চলের উন্নয়নে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও রাউজান-রাঙ্গুনিয়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী শোক বার্তায় বলেন, রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়া ফ্যাসিবাদী ও আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে অবিনাশী মনোবল নিয়ে লড়াই চালিয়ে গেছেন। শত নির্যাতন সত্ত্বেও তিনি মাতৃভূমি ছেড়ে কোথাও যাননি। বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে তাঁর আপসহীন ভূমিকা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
এছাড়া চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমিন শোকবার্তায় বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের এক অবিচল ও সাহসী নেতৃত্বের প্রতীক। তার মৃত্যুতে দেশ এক মহান অভিভাবককে হারাল।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন