তানোরে শোকের আবর্তে বছরের প্রথম দিনেই বই বিতরণ

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি প্রকাশিত: জানুয়ারি ১, ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
তানোরে শোকের আবর্তে বছরের প্রথম দিনেই বই বিতরণ

বছরের প্রথম দিনে বই উৎসবে মেতে ওঠে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এবারে রাজশাহীর তানোরে শোকের আবর্তে বই বিতরণ করা হয়েছে। নতুন বই হাতে পেয়েও শিক্ষার্থীদের তেমন উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল না। শুধু শিক্ষার্থী না, শিক্ষক ও কর্মকর্তারাও শোক নিয়ে বই বিতরণ করেছেন। 

কারণ গত ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ হারিয়েছে এক মহীয়সী দেশনেত্রী, বিএনপির চেয়ারপারসন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও গণতন্ত্র আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী বেগম জিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে তিনদিনের ও দলীয়ভাবে সাত দিনের শোক ঘোষণা করা হয়। 

শোকের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার সারা দেশের ন্যায় রাজশাহীর তানোরে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেন শিক্ষকরা। গত বুধবার রাষ্ট্রীয়ভাবে ছুটি দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বই বিতরণ করা হয়।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত পুরো বই বিতরণ করা হয়েছে। অপরদিকে মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ ও নবম শ্রেণীর পুরো বই বিতরণ করা হয়েছে। ৭ম ও নবম শ্রেণীর অর্ধেক এবং ৮ম শ্রেণীর বই হাতে পায়নি শিক্ষার্থীরা।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১২৮ টি। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিকে শিক্ষার্থী ৩ হাজার ১৪ জন, বই বিতরণ ৩ হাজার ১৪ টি। ১ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ২ হাজার ৮৪৯ জন, বিতরণকৃত বইয়ের সংখ্যা ৮ হাজার ৫৪৭ টি। ২য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী ২ হাজার ৭৬০ জন, বইয়ের সংখ্যা ৮ হাজার ২৮০ টি। ৩য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী ২ হাজার ৮৮৪ জন, বইয়ের সংখ্যা ৮ হাজার ২৮০ টি। ৪র্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ২ হাজার ৮৮৭ জন, বইয়ের সংখ্যা ১৭ হাজার ৩২২ টি। ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ২ হাজার ৬৬৮ জন, বিতরণকৃত বইয়ের সংখ্যা ১৬ হাজার ৮ টি।

এছাড়াও কেজি স্কুল ১৮ টি ও এনজিও স্কুল ১০ টি সব শিক্ষার্থীর মাঝে নতুন বই বিতরণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আলেয়া ফেরদৌসী। তিনি আরও জানান, এবারে ভিন্নভাবে বই বিতরণ করা হয়েছে, কারণ রাষ্ট্রীয় শোক চলছে। তবে এই অবস্থায় সব শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দেওয়া হয়েছে এটাই অনেক বড় ব্যাপার।

মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল রয়েছে ৬২ টি। এর মধ্যে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ৩ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর মাঝে ৩৮ হাজার ৫০০ বই বিতরণ করা হয়েছে। ৭ম শ্রেণীর ৩ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীর বইয়ের প্রয়োজন ৩৫ হাজার ২০০ টি, বিতরণ করা হয়েছে ১২ হাজার বই, বাকি রয়েছে ২৩ হাজার ২০০ বই। ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ৩ হাজার ১০০ জন, বই প্রয়োজন ৩৪ হাজার ১০০ টি, বই আসেনি। নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ৩০০০ জন, বইয়ের প্রয়োজন ৪২ হাজার ২০০ টি, বিতরণ হয়েছে ২৫ হাজার ৩৫০ টি।

পৌর সদর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান জানান, শুধুমাত্র ৬ষ্ঠ শ্রেণীর পুরো বই বিতরণ করা হয়েছে। ৮ম শ্রেণীর বই পাওয়া যায়নি। আর ৭ম ও নবম শ্রেণীর আংশিক বই পাওয়া গেছে। যেসব বই পাওয়া গেছে সেগুলো বিতরণ করা হয়েছে। বাকি বই যেদিন পাওয়া যাবে সেদিনই বিতরণ করা হবে। রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক বই বিতরণ করা হয়েছে।

মাদ্রাসা ২২ টি; ৬ষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ১ হাজার ২০০ জন, বইয়ের প্রয়োজন ১৫ হাজার ৬০০ টি, কোনো শিক্ষার্থী বই পায়নি। ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ১ হাজার ৫০ জন, বইয়ের প্রয়োজন ১৩ হাজার ৬৫০ টি, সব বিতরণ করা হয়েছে। ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ৯৫০ জন, বইয়ের প্রয়োজন ১২ হাজার ৩৫০ টি, বিতরণ হয়েছে ৬ হাজার ৬৫০ টি। নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ৯২০ জন, বইয়ের প্রয়োজন ১৩ হাজার ৮০০ টি, বই আসেনি।

জিওল দাখিল মাদ্রাসার সুপার আসলাম উদ্দিন জানান, ৬ষ্ঠ ও নবম শ্রেণীর বই পাওয়া যায়নি আর অষ্টম শ্রেণির অর্ধেক পাওয়া গেছে। এবারে বই উৎসব হয়নি। রাষ্ট্রীয় শোক চলছে। শোকের আবর্তে বই বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সিদ্দিকুর রহমান জানান, গত রাতে শিক্ষা সচিবরা সভা করেছেন; চলতি মাসের ১০ জানুয়ারির মধ্যে সকল বই আসবে। এবারে রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক চলমান থাকার কারণে শোকের আবর্তেই বই বিতরণ করা হয়েছে।

ইএইচ