বই আছে শিক্ষক নেই, দৌলতপুরের চরাঞ্চলে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা বিপর্যস্ত

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি প্রকাশিত: জানুয়ারি ৪, ২০২৬, ০২:০৬ পিএম
বই আছে শিক্ষক নেই, দৌলতপুরের চরাঞ্চলে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা বিপর্যস্ত

নতুন বছরের শুরুতে নতুন বই হাতে পেলেও কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলের সাড়ে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে তীব্র শিক্ষকসংকটে। 

উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের ২৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিনের শূন্যপদ ও যাতায়াত প্রতিকূলতায় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত থমকে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যানুযায়ী, চরাঞ্চলের ২৫টি বিদ্যালয়ে অনুমোদিত ১৫০টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৮৫ জন শিক্ষক। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে ৬৫টি পদ শূন্য পড়ে আছে। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক বিদ্যালয়ে প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছয়টি শ্রেণির পাঠদান সামলাচ্ছেন মাত্র দুই থেকে তিনজন শিক্ষক। কোথাও আবার একজন শিক্ষককেই পুরো স্কুল পরিচালনা করতে হচ্ছে। একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে বসিয়ে পাঠদান করায় শিক্ষার গুণগত মান মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

চরাঞ্চলের এই সংকটের পেছনে ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রশাসনিক জটিলতাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। উপজেলা সদর থেকে চরের স্কুলগুলোতে পৌঁছাতে যাতায়াতেই চার ঘণ্টার বেশি সময় ব্যয় হয়। বর্ষায় নৌকা আর গ্রীষ্মে বালুপথ পাড়ি দিয়ে যাতায়াত করা নারী শিক্ষকদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। এ ছাড়া অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করায় দাপ্তরিক কাজে তাদের প্রায়ই উপজেলা সদরে যেতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে ওই দিনগুলোতে বিদ্যালয়ে পাঠদান সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। 

চিলমারী ইউনিয়নের খারিজাথাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন জানান, দাপ্তরিক কাজে উপজেলা অফিসে গেলে যাতায়াত খরচ ও সময়ের অভাবে স্কুলে পাঠদানের সুযোগই থাকে না।

একই আক্ষেপ ঝরে পড়ল পূর্ব খারিজাথাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পারভিনা আক্তারের কণ্ঠে। তিনি জানান, ৩৬৫ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক মাত্র তিনজন। প্রতি শ্রেণিতে ৬০ থেকে ৬৫ জন শিক্ষার্থীকে সামলানো তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শিক্ষক স্বল্পতার কারণে চরের শিক্ষার্থীরা ক্রমাগত পিছিয়ে পড়ছে এবং অনেকে ঝরে পড়ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকবৃন্দ।

দৌলতপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুস্তাক আহম্মেদ জানান, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত অনেক শিক্ষক চরাঞ্চলে থাকতে চান না এবং বিভিন্ন সুপারিশের মাধ্যমে সুবিধাজনক স্থানে বদলি হয়ে যান। তবে জানুয়ারিতে নতুন নিয়োগ সম্পন্ন হলে এই সংকট কিছুটা লাঘব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। 

ইএইচ