মানিকগঞ্জে বিএনপির দুই বিদ্রোহীসহ ৯ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল

বি.এম খোরশেদ, মানিকগঞ্জ প্রকাশিত: জানুয়ারি ৪, ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম
মানিকগঞ্জে বিএনপির দুই বিদ্রোহীসহ ৯ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল

মানিকগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনে মোট ২৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাইকালে বিএনপির দুই বিদ্রোহী ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীসহ ৯ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে ১৮ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র।

গতকাল রোববার বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমুন আরা সুলতানা যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠানে বৈধ-অবৈধ মনোনয়নপত্র ঘোষণা করেন। এ সময় তিনটি নির্বাচনী আসনের প্রার্থী ও তাঁদের মনোনীতরা উপস্থিত ছিলেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, মানিকগঞ্জ-১ (ঘিওর-দৌলতপুর-শিবালয়) আসনে ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এর মধ্যে দুজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়।

তারা হলেন, জনতা দলের প্রার্থী মো শাহজাহান খান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুল আলী বেপারী। শাহজাহান খানের দলের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়া ও আব্দুল আলী বেপারীর এক শতাংশ ভোটার তালিকার তথ্য সঠিক না থাকায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।

এই আসনে যাদের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে তারা হলেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস.এ জিন্নাহ কবীর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. আবু বক্কর সিদ্দিক, গণঅধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ ইলিয়াছ হুসাইন, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক তোজাম্মেল হক তোজা (স্বতন্ত্র), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মো. হেদায়েতুল্লাহ, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির মনোনীত প্রার্থী দিলীপ কুমার দাশ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মো. খোরশেদ আলম।

মানিকগঞ্জ-২ (সিংগাইর-হরিরামপুর) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ৬ জন। এর মধ্যে ৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তারা হলেন, সাবেক এমপি ও জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী এস.এম আব্দুল মান্নান, বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থী সিংগাইর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবিদুর রহমান নোমান এবং জেলা বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ মো. আব্দুল হক মোল্লা। এস.এম আব্দুল মান্নানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ঋণখেলাপির কারণে। আবিদুর রহমান নোমান ও মো. আব্দুল হক মোল্লার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে এক শতাংশ ভোটারের তথ্য সঠিক না থাকায়।

যাদের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে তারা হলেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাঈনুল ইসলাম খান শান্ত, খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী মোঃ সালাউদ্দিন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আলী।

মানিকগঞ্জ-৩ (মানিকগঞ্জ সদর-সাটুরিয়া) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ১২ জন প্রার্থী। এদের মধ্যে ৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। 

তারা হলেন, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আতাউর রহমান আতা (স্বতন্ত্র), আমেরিকান প্রবাসী রফিকুল ইসলাম (স্বতন্ত্র), এবি পার্টির মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নেতা মো. ফারুক হোসেন (স্বতন্ত্র)। 

এবি পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সমর্থনকারীর স্বাক্ষর না থাকায় ও অপর তিন স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক শতাংশ ভোটার তালিকায় সঠিক তথ্য না থাকায় তাঁদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

যাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে তারা হলেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খানম রিতা, গণফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাবেক এমপি মফিজুল ইসলাম খান কামাল (স্বতন্ত্র), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুহা. দেলওয়ার হোসাইন, বাংলাদেশ জাসদ মনোনীত প্রার্থী মো. শাহজাহান আলী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ সাঈদ নূর, জাতীয় পার্টি (জেপি) মনোনীত প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ, জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী আবুল বাশার বাদশা এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী সামসুদ্দিন।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমুন আরা সুলতানা জানান, মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করার সুযোগ পাবেন।

ইএইচ