ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত এলাকায় সোনা চোরাচালানকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মতিয়ার রহমান মতি (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে আবারো গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এর আগেও একই বিরোধে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছিল।
আহত মতিয়ার রহমান মতি হলেন, মহেশপুর উপজেলার বাঘাডাঙ্গা পশ্চিমপাড়ার আজিজুর রহমানের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে তিনি মহেশপুর শহর থেকে মোটরসাইকেলযোগে নিজ বাড়ি ফেরার পথে বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ভাষানপোতা এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা পেছন দিক থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুলিটি তার পিঠে লাগে।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। চিকিৎসার সময় সেখানে আহতের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন,।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান আলী জানান, সোনা চোরাচালানের অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। সেই দ্বন্দ্বের জের ধরেই তাকে গুলি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এর আগেও একবার মতিয়ার রহমানের ওপর হত্যাচেষ্টায় গুলি চালানো হয়েছিল। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ১৭ জানুয়ারি বাঘাডাঙ্গা গ্রামে মন্টু ও তার ভাতিজা শামিমকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনার সঙ্গেও এই বিরোধের সম্পর্ক রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ঘটনাটি নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য ওবাইদুল ইসলাম বলেন, সোনা চোরাচালানের অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরেই আবারো মতিয়ার রহমানের ওপর গুলি করে হত্যাচেষ্টা চালানো হয়েছে। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ১৭ জানুয়ারির আলোচিত ডাবল হত্যা মামলার প্রধান আসামি তরিকুল ইসলাম আকালের সঙ্গে অনেক আগে থেকেই মতিয়ারের হুন্ডি ও সোনা চোরাচালানের অর্থ সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। সেই পুরনো দ্বন্দ্ব থেকেই এই হামলা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মতিয়ার রহমানকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তাকে চিকিৎসার জন্য যশোরে পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন