সন্দ্বীপে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বিবাহ রেজিস্ট্রার, ধর্মীয় নেতা, কমিউনিটি ফোরাম সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার সকাল ১১টায় বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের এনাম নাহার মোড় শাখার হলরুমে এই সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ সন্দ্বীপ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. শামসুদ্দিন। কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার শাহেনা আকতারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সন্দ্বীপ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মহসিন আলম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহসিন আলম বলেন, “বাল্যবিবাহ একটি গুরুতর সামাজিক ব্যাধি। এটি প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়, সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি ও সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বিবাহ রেজিস্ট্রার, ধর্মীয় নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন হারামিয়া ইউনিয়নের নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার মাওলানা কাজী নিজাম উদ্দিন, বাউরিয়া ইউনিয়নের বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার আহসান উল্ল্যাহ, হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রার তুষার ব্যানার্জি, পৌরসভা বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার মো. আইয়ুব এবং হরিশপুর ইউনিয়নের বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার আবদুল কুদ্দুস।
এছাড়া মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুরাইয়া বেগম, হারামিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লুনা বেগম, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা সন্দ্বীপ শাখার সভাপতি ইলিয়াছ সুমন এবং হারামিয়া ইউপির প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাজী মেহরাজুল ইসলাম বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ রোধে বিবাহ নিবন্ধনের সময় বয়স যাচাইয়ে আরও কঠোর হতে হবে এবং কোনো অনিয়ম বরদাশত করা যাবে না। ধর্মীয় নেতারা খুতবা ও ধর্মীয় আলোচনায় বাল্যবিবাহের কুফল তুলে ধরলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা সমন্বিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন এবং সন্দ্বীপকে বাল্যবিবাহমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন