রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আগাম জাতের মুড়িকাটা পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হওয়ায় খুশি চাষিরা। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে এবং বাজারে ভালো দাম থাকায় লাভবান হচ্ছেন তারা।
চাষিরা জানান, এ বছরের শুরুতে প্রতি মণ মুড়িকাটা পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছিল। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায়। এ বছর বিঘায় ফলন হয়েছে ৮০ থেকে ৯০ মণ।
চাষিরা আরও জানান, সার ও বীজসহ সব কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খরচ অনেক বেড়েছে। ডিএপি সার কিনতে হয়েছে ১ হাজার ৭০০ টাকা বস্তা, যার সরকার নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৫০ টাকা। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন আশানুরূপ হয়েছে। মুড়িকাটা পেঁয়াজের বর্তমান দাম পেয়ে তারা সন্তুষ্ট। এতে প্রতি বিঘায় তাদের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাভ হচ্ছে।
পেঁয়াজ চাষি মো. ছিদ্দিক মোল্লা বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ভালো ফলন হয়েছে। প্রতি বিঘায় ১ লাখ টাকা খরচ হলেও আমাদের ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাভ হচ্ছে। তবে সার ও ওষুধের অতিরিক্ত দামের কারণে আমরা দিশেহারা। যদি সার ও ওষুধ সরকার নির্ধারিত মূল্যে পেতাম, তাহলে আরও লাভবান হতে পারতাম।
কৃষক আলমগীর মোল্লা বলেন, এ বছর প্রতিটি ক্ষেতেই ভালো ফলন হয়েছে। পেঁয়াজ রোপণের পর বৃষ্টিও হয়নি। গত বছর বিঘায় ৪৫ থেকে ৫০ মণ ফলন হয়েছিল, সেখানে এ বছর ৭০ থেকে ৮০ মণ পেঁয়াজ হচ্ছে। খরচ বাদ দিয়েও অনেকটা লাভবান হব।
কৃষক মো. আবু মুসা শেখ বলেন, এ বছর আমি ২০ বিঘা জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে ছিল এবং তেমন অতিবৃষ্টি হয়নি, যার কারণে আশানুরূপ ফলন হয়েছে। ফলে খরচের টাকা বাদ দিয়েও অনেক লাভবান হতে পারব।
গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সৈয়দ রায়হানুল হায়দার বলেন, এ বছর ২ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। রবি মৌসুমের শেষের দিকেও বৃষ্টি হয়নি, যার কারণে ফলন অনেক ভালো হয়েছে। কৃষক দামও ভালো পাচ্ছে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন