টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কুকুর, বিড়াল ও শিয়ালের কামড়ের প্রতিষেধক বা জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের (অ্যান্টি-রেবিস ভ্যাকসিন) সরকারি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
বুধবার থেকে এই সংকট চরম আকার ধারণ করায় প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা ৩০ থেকে ৪০ জন রোগী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সাইদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ভ্যাকসিনের কোনো মজুদ নেই। এমনকি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেও এই মুহূর্তে ভ্যাকসিনের সংকট চলায় নতুন কোনো সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি আরও জানান, দেশের কয়েকটি ওষুধ কোম্পানি এই ভ্যাকসিন তৈরি করলেও কাঁচামাল সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে জাতীয়ভাবে এই ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
মধুপুর একটি পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় এখানে কুকুর, বিড়াল ছাড়াও শিয়াল, বেজি, বানর ও বাদুড়ের উপদ্রব অনেক বেশি। ফলে প্রতিনিয়ত শিশুসহ সব বয়সী নারী-পুরুষ এসব প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন। প্রতিদিন গড়ে ৩০-৪০ জন রোগী ভ্যাকসিনের জন্য আসলেও হাসপাতাল থেকে তাদের খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে অথবা বাইরে থেকে চড়া দামে কেনার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি সরবরাহ না থাকায় রোগীদের বাধ্য হয়ে স্থানীয় ফার্মেসি থেকে প্রতিটি ভ্যাকসিন ৪৫০ থেকে ৬৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। তবে উপজেলার হাতেগোনা কয়েকটি ফার্মেসিতে সীমিত পরিমাণে ভ্যাকসিন থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। অনেক গরিব রোগীর পক্ষে এত টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন কেনা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ডা. সাইদুর রহমান জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে এই ভ্যাকসিনের উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন