স্বামীকে তালাকের জেরে হাসপাতালে ডিউটিরত নার্সকে ছুরিকাঘাত, অভিযুক্ত সেনা সদস্য পলাতক

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি প্রকাশিত: জানুয়ারি ৯, ২০২৬, ০২:২৯ পিএম
স্বামীকে তালাকের জেরে হাসপাতালে ডিউটিরত নার্সকে ছুরিকাঘাত, অভিযুক্ত সেনা সদস্য পলাতক

পাবনার চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডিউটিরত এক নার্সকে গলায় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে তার সেনা সদস্য স্বামীর বিরুদ্ধে। আহত অবস্থায় ওই নার্সকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইনডোর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাটমোহর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. গোলাম সারওয়ার হোসেন।

আহত নার্সের নাম সুলতানা জাহান ডলি (২৮)। তিনি পার্শ্ববর্তী আটঘরিয়া উপজেলার কুষ্টিয়াপাড়া এলাকার শাহজাহান আলীর মেয়ে এবং বর্তমানে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত। অভিযুক্ত স্বামী আমিরুল ইসলাম (৩৫) চাটমোহর উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের মল্লিকবাইন এলাকার নুর মোহাম্মদের ছেলে এবং পেশায় সেনা সদস্য।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত নার্স ডলি হাসপাতালের ইনডোরে নাইট ডিউটিতে ছিলেন। ডিউটি শেষ হওয়ার কিছু আগে সকাল পৌনে ৮টার দিকে তার স্বামী আমিরুল ইসলাম হাসপাতালে এসে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি ছুরি দিয়ে ডলির গলায় আঘাত করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেন। গলায় একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এ ঘটনায় এর আগের দিনই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন ভুক্তভোগী নার্স। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে আমিরুল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে ব্ল্যাকমেইল করে প্রায় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন এবং টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে চলতি বছরের ২ জানুয়ারি তিনি আমিরুল ইসলামকে তালাক দেন।

জিডিতে আরও বলা হয়, তালাকের পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি সহকর্মী ও পরিচিতজনদের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। গত ২৩ ডিসেম্বর বিকেলে চাটমোহর প্রাইম হাসপাতালের সামনে প্রকাশ্যে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনাও জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর নামও জিডিতে উল্লেখ করেন তিনি।

চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ওমর ফারুক বুলবুল বলেন, “আহত নার্সকে আমাদের এখানেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গলায় আঘাত গুরুতর হওয়ায় এখনো তার কাছ থেকে বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়নি। মৌখিকভাবে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। হাসপাতালের ভেতরে এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হওয়া উচিত।”

চাটমোহর থানার ওসি মো. গোলাম সারওয়ার বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। স্বামী-স্ত্রীর দীর্ঘদিনের কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ইএইচ