জাজিরায় বোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণের ঘটনায় আটক ৩

নুরুজ্জামান শেখ, শরীয়তপুর প্রকাশিত: জানুয়ারি ৯, ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম
জাজিরায় বোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণের ঘটনায় আটক ৩

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামে ঘরে বসে বোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণে ২ জন নিহত ও ৩ জন আহত হওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জাজিরা থানার এসআই আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে ৫৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৪০-১৫০ জনকে আসামি করে এই মামলাটি দায়ের করেন। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

বিস্ফোরণের আলামত সংগ্রহে শুক্রবার সকালে মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামে কাজ শুরু করেছে পুলিশের সিআইডির ক্রাইমসিন বিভাগের বোমা ডিসপোজাল ইউনিট। বিশেষজ্ঞরা বিস্ফোরণে লন্ডভন্ড হওয়া ঘর এবং চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছেন। ভয়াবহ এই বিস্ফোরণের পর থেকে গ্রেপ্তার আতঙ্কে পুরো গ্রাম এখন পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।

জাজিরা থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে একটি নবনির্মিত বসতঘরে বোমা তৈরির সময় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই সোহান ব্যাপারী (৩২) নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পর বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান নবীন হোসেন (২৮)। বর্তমানে গুরুতর আহত নয়ন মোল্লাসহ আরও কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত সোহান দেলোয়ার হোসেন ব্যাপারীর ছেলে এবং নবীন হোসেন রহিম সরদারের ছেলে।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মদ জানান, বিস্ফোরণের ঘটনায় হতাহতরা বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা কুদ্দুস ব্যাপারীর সমর্থক। যে ঘরে বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেটি কুদ্দুস ব্যাপারীর চাচাতো ভাই সাগর ব্যাপারীর। ঘটনার পর থেকে সাগর পলাতক রয়েছেন। মূলত এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কুদ্দুস ব্যাপারী ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবদুল জলিল মাদবরের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এই বোমা তৈরির কাজ চলছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাজিরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুস সালাম জানান, পুরো এলাকা এখন পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে এবং আটক ৩ জনকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

জেএইচআর