গণঅভ্যুত্থানের ১৭ মাস পর সাবেক এমপিসহ ৪৪ জনের নামে মামলা

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি প্রকাশিত: জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ০২:৪০ পিএম
গণঅভ্যুত্থানের ১৭ মাস পর সাবেক এমপিসহ ৪৪ জনের নামে মামলা

গণঅভ্যুত্থানের ১৭ মাস পর টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের সাবেক এমপি খান আহমেদ শুভসহ ৪৪ জনের নামে দ্রুত বিচার আইনে টাঙ্গাইল আদালতে মামলা করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী সুজন। 

এ মামলা থেকে বাদ পড়েননি টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনের স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী ও লাবীব গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল। রোববার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে থানা পুলিশ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ভানুয়াবহ গ্রামের হাছান আলীর ছেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী মো. সুজন মিয়া (৩২) বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) টাঙ্গাইল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম মাহবুব খানের আদালতে হাজির হয়ে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন ২০০২ এর ৪/৫ ধারা অনুযায়ী মামলার আবেদন করেন। আদালত আবেদন আমলে নিয়ে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে টাঙ্গাইল-৭ আসনের সাবেক এমপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খান আহমেদ শুভকে। এছাড়া মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মীর শরীফ মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার তাহরীম হোসেন সীমান্তসহ ৪৪ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাসাইল-সখীপুর আসনের স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলকে ৮ নম্বর আসামি করা হয়।

মামলার বিবরণে ৮ নম্বর আসামি রাসেলকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এমপি ও ঢাকা দক্ষিণের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের ব্যবসায়িক পার্টনার এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে অর্থ জোগানদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। 

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন গোড়াই হাইওয়ে থানার সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে উল্লিখিত আসামিরা লাঠি, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড, পিস্তল, শটগান ও রিভলবার নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়ে মারপিট ও আহত করে। এতে বাদী সুজন মিয়া আহত হন। এই ঘটনায় তিনি টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মির্জাপুর আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।

সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল বলেন, তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফসল। মামলার বাদী সুজন মিয়া প্রকৃতপক্ষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোনো নেতা নন; তিনি মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়ন শ্রমিক দলের যুগ্ম সম্পাদক।

মামলার বাদী সুজন মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ না করায় তার মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আদালতের নির্দেশে মামলাটি এফআইআর করা হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইএইচ