পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের দুধবাড়িয়া গ্রামে ভেজাল সন্দেহে ৪১ ড্রাম মধু জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সোমবার রাতে দুধবাড়িয়া গ্রামের আপেলের বাড়ির সামনে থেকে গ্রামবাসী এই ভেজাল মধু আটক করেন। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জব্দকৃত মধুগুলো জনসমক্ষে নষ্ট করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চারটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ৪১ ড্রাম ভেজাল মধু পাচার করার গোপন সংবাদ পেয়ে এলাকাবাসী রাস্তায় অবস্থান নেন। গভীর রাতে গাড়িগুলো সেখানে পৌঁছালে গ্রামবাসী সেগুলো থামিয়ে তল্লাশি করেন এবং মধুর মধ্যে চিনির সিরার উপস্থিতি দেখতে পেয়ে প্রশাসনকে খবর দেন।
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা হলেন, বরপুকুরিয়া গ্রামের রমজান আলী, তার সহোদর ভাই জাইদুল, চাচাতো ভাই মোস্তফা, চাচা গোলাম রসুল, আম্বিয়া ও তার জামাই সোহাগ গাজী। তারা দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে আসছেন বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।
এলাকাবাসী আরও জানান, অভিযুক্ত এই সিন্ডিকেট চিনি জ্বালিয়ে মধু তৈরি করে আসছে। এদের বিরুদ্ধে আগেও মামলা হয়েছে এবং তারা জেল খেটেছেন। স্থানীয়দের দাবি, এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে যারা মদদ দিচ্ছে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হোক।
তারা জানান, একসময় অভাবগ্রস্ত থাকলেও এই ভেজাল মধুর ব্যবসা করে তারা এখন কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন এবং বর্তমানে বিলাসবহুল ব্যক্তিগত গাড়ি বা প্রাইভেট কার ছাড়া যাতায়াত করেন না।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মো. রমজান, মো. জাইদুল, মো. মোস্তফা, মো. সোহাগ, আম্বিয়া ও গোলাম রসুল পলাতক রয়েছেন। তাদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও ফোনগুলো বন্ধ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন