বড়লেখায় চা শ্রমিকদের অবরোধ, ইউএনও ও ওসির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৩, ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম
বড়লেখায় চা শ্রমিকদের অবরোধ, ইউএনও ও ওসির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় অডিট টিমের সদস্যদের আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে এবং তিন সপ্তাহ ধরে তলব বা সাপ্তাহিক বেতন বন্ধের প্রতিবাদে বাগান ব্যবস্থাপক ও অডিট টিমের সদস্যদের কার্যালয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধ চা শ্রমিকরা। 

মঙ্গলবার বাংলাদেশ চা বোর্ড নিয়ন্ত্রিত নিউ সমনবাগ বাগানে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওসির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

জানা গেছে, বর্তমান মৌসুমে চা বাগানে চা পাতা চয়ন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এই সময় চা শ্রমিকরা গড় বেতন পেয়ে থাকেন। কিন্তু এবার প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে সাপ্তাহিক ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার স্থলে প্রত্যেক শ্রমিককে মাত্র ১০০ থেকে ২০০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া তিন সপ্তাহ ধরে তাদের চলমান বেতন ও বকেয়া এরিয়ার বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি গত ৫ জানুয়ারি চা শ্রমিকদের ডাটাবেজের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে ৬ সদস্যের একটি অডিট টিম নারী চা শ্রমিকদের তথ্য সংগ্রহকালে আপত্তিকর নানা মন্তব্য করে। এটি শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করে। ফলে মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে প্রায় দেড় হাজার চা শ্রমিক বাগানের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে কর্মকর্তা, কর্মচারী ও অডিট টিমের সদস্যদের অবরোধ করে রাখেন। 

খবর পেয়ে বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার গালিব চৌধুরী ও বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান খান ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের সাথে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তখন প্রশাসনের উপস্থিতিতে নারী চা শ্রমিকদের আপত্তিকর মন্তব্য করার দায়ে অডিট টিমের প্রধান ও টি বোর্ডের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম দুঃখ প্রকাশ করেন।

জুড়ী ভ্যালির সভাপতি শ্রমতি বাউরী, শ্রমিক নেতা স্বরস্বতী সাওতাল, জানকি গড়াইত, হেমন্তি রবি দাস ও স্বরস্বতী খানুসহ নিয়মিত চা শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, আমরা এখন মানবেতর জীবনযাপন করছি। সামনে সংক্রান্তি উৎসব, অথচ তিন সপ্তাহ ধরে নিয়মিত বেতন ও এরিয়ার দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া আমাদের ঘরবাড়িগুলো জরাজীর্ণ ও ব্যবহারের অনুপযোগী হলেও সংস্কার করা হচ্ছে না। চা চয়ন বন্ধকালীন আমাদের গড় হিসেবে মজুরি দেওয়ার নিয়ম থাকলেও এবার বাগান কর্তৃপক্ষ আমাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করেছে। 

এর মধ্যে অডিট করতে এসে নারী শ্রমিকদের সাথে আপত্তিকর ও অশোভন আচরণ করায় শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মধ্যস্থতায় অডিট টিমের প্রধান দুঃখ প্রকাশ করলে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার গালিব চৌধুরী জানান, বাগান ব্যবস্থাপক ও শ্রমিকদের মধ্যে যথেষ্ট সমন্বয়ের অভাব ছিল, যার কারণে শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। বিষয়টি উভয় পক্ষকে নিয়ে নিরসন করা হয়েছে।

অডিট টিমের প্রধান ও টি বোর্ডের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, চা শ্রমিকদের ডাটাবেজ তৈরির জন্য ৬ সদস্যের অডিট টিম নিউ সমনবাগ চা বাগানে শ্রমিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করে। তথ্য সংগ্রহকালে ভাষাগত ভুল বোঝাবুঝির কারণে শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয় এবং বিষয়টি তারা আপত্তিকর হিসেবে ধরে নেয়। 

তবে ইউএনও, থানার ওসি, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও শ্রমিক নেতাদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিরসন করা হয়েছে।

ইএইচ