জমি দখলের চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ 

‎কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম
জমি দখলের চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ 
ইনসেটে অভিযুক্ত ব্যক্তি আলী হোসেন। ছবি: প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মামলার তদন্ত নিজের পক্ষে নিতে রাতের আধাঁরে প্রবাসীর জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টাকালে বাধা দেওয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আলী হোসেন নামে এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে।

‎উপজেলা চরলরেন্স ইউনিয়নের প্রবাসী নুর হোসেনের পৈত্তিক সম্পত্তির ১৩ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন থেকে নিজের কবজায় নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ ছিল বিতর্কিত সাবেক হিসাবরক্ষক (অডিটর) আলী হোসেনের বিরুদ্ধে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত আলী হোসেন কিছুদিন পূর্বে জমির দখল নিতে চেষ্টা করলে প্রবাসীর স্ত্রী বাধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে ব্যাপক মারধর করে আলী হোসেন। ফলে, মারাত্মক জখমে আহত হয়ে প্রবাসীর স্ত্রী নাজমা বেগম বাদী হয়ে স্থানীয় থানায় মামলা দায়ের করলে অভিযুক্ত আলী হোসেন দীর্ঘদিন জেল হাজতে থাকেন।

অভিযুক্ত আলী হোসেন জমির দখল নিতে জেলা আদালতে ১৪৪ ধারা জারির নোটিশ দাখিল করেন। মামলা দখল প্রতিবেদন নিতে হঠাৎ রাতের আধাঁরে ট্রাক্টর নিয়ে হাল চাষ দিতে গেলে স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে পালিয়ে যান তিনি।

‎ভুক্তভোগী নাজমা বেগম জানান, আমার স্বামী তার বাবা ছফি উল্যাহর মালিকানা ও রেকর্ডীও পৈত্তিক সম্পত্তি ভাগ বণ্টনের পর চর লরেন্স মৌজার আরএস ১২১৯ নং খতিয়ানের ৬৩৩৪ নং দাগে ১৩ শতাংশ জমি ভাগে পান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তার বড় ভাই আলী হোসেন তার উপর মারধর করেন এবং জেলা আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পক্ষে নিতে জোরপূর্বক রাতের আধাঁরে ট্রাক্টর দিয়ে হাল চাষ করতে গেলে স্থানীয়দের তোপের মুখে পালিয়ে যান। এতে জমিতে তার সরিষার চাষ ছিল। হাল চাষ করায় সব সরিষার চারা নষ্ট হয়ে যায়। এতে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হন।  

এছাড়াও অভিযুক্ত আলী হোসেন এর বিরুদ্ধে আমার স্বামী নুর হোসেন এর বাবা ও ভাই-বোনদের একাধিক জমি দখল ও রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ রয়েছে। এবং এসব বিষয়ে স্থানীয় থানা ও জেলা আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। 

‎অভিযুক্ত আলী হোসেন বলেন, জমিসংক্রান্ত বিষয়ে মামলা হলে তিনি জেল খাটেন। তবে হাল চাষকৃত জমি তার ক্রয়কৃত সম্পত্তি। 

চর লরেন্স ইউনিয়ন ভূমি তহশিলদার জাফর আকবর হোসাইন বলেন, এই জমিসংক্রান্ত বিষয়ে জেলা আদালতে মামলা রয়েছে। তদন্ত চলছে। জোরপূর্বক দখল করে তো দখলদার দাবি করা যাবে না। খোঁজ-খবর নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

এএন