ময়মনসিংহ শহরের বহুল আলোচিত ‘চাচার হোটেল’-এর মালিক খন্দকার আবু মুছা মোহাম্মদ আদমের বসতবাড়িতে সংঘটিত দস্যুতার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবি পুলিশ।
অভিযানে ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় লুণ্ঠিত নগদ ২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
ডিবি পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ১৮ জুন রাতে আনুমানিক ১২টা ১৫ মিনিটে খন্দকার আবু মুছা মোহাম্মদ আদম নিজ বাসার দরজার তালা খোলার সময় অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তি পেছন দিক থেকে ঝাপটে ধরে তাকে ঘরের ভেতরে নিয়ে যায়। পরে তার হাত-পা, মুখ ও চোখ বেঁধে একটি কক্ষে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং শব্দ করতে নিষেধ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। জ্ঞান ফিরে পেয়ে তিনি তার স্ত্রী ও চাচার হোটেলের ম্যানেজার মুস্তাফিজুর রহমান দুদু মিয়াকে বিষয়টি জানান।
পরে দেখা যায়, খাটের নিচে রাখা একটি ট্রাঙ্ক ভেঙে সেখানে সংরক্ষিত নগদ ২৩ লাখ টাকা এবং প্রায় দেড় ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী অজ্ঞাতনামা দুইজনকে আসামি করে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে থানায় এফআইআর নং-৬৩, তারিখ ২০ জুন ২০২৫, দণ্ডবিধির ৩৯৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়। ময়মনসিংহের পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ)-এর নির্দেশনায় ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় দীর্ঘ তদন্ত ও অভিযান পরিচালনা করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ রাত ৭টা ১৫ মিনিটে কোতোয়ালী মডেল থানাধীন কাঁচিঝুলি এলাকার ২৫/খ, গোলাপজান রোড থেকে স্বপ্না নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আবদুর রহিমের মেয়ে এবং ইমরান সরকারের স্ত্রী।
ডিবি পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন