কর্ণফুলী উপজেলায় মোট ৩৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ৯টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্তভাবে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। এতে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজে নানা জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।
কর্ণফুলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন কারণে বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এর ফলে বিদ্যালয় পরিচালনায় কাঙ্ক্ষিত শৃঙ্খলা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কৌশিক চাকমা জানান, কর্ণফুলী উপজেলায় সরকারি ৩৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমানে ৯টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
যেসব বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নেই, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে চরলক্ষ্যা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডাঙ্গাচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দৌলতপুর ধরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শাহামিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খোয়াজ নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম শিকলবাহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দেয়াং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পশ্চিম চরপাথরঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংখ্যা মাত্র চার-পাঁচজন। এর মধ্যে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় বাকি তিন বা চারজন সহকারী শিক্ষককে একযোগে একাধিক শ্রেণির পাঠদান পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
এ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কর্তৃত্ব মানতে অনীহা প্রকাশ করায় বিদ্যালয়ের ভেতরে দ্বন্দ্ব ও অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাব সরাসরি শিক্ষা কার্যক্রমে পড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে আরও জানা যায়, কর্ণফুলী উপজেলার ৩৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুমোদিত শিক্ষক সংখ্যা ২৭২ জন। বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ২৬৩ জন। শূন্য থাকা ৯টি পদই প্রধান শিক্ষকের। কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে নারী শিক্ষক ২৪১ জন এবং পুরুষ শিক্ষক ২০ জন। ফলে নারী শিক্ষকের হার প্রায় ৯১ শতাংশ।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না হলে কর্ণফুলীর প্রাথমিক শিক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এতে শিক্ষার্থীদের ভিত্তিগত শিক্ষা দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষক ব্যবস্থাপনায় অস্থিরতা আরও বাড়বে। তাই শূন্য পদগুলোতে দ্রুত নিয়োগ দিয়ে বিদ্যালয়গুলোতে কার্যকর নেতৃত্ব নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন